প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এই দাবি জানান দলের নেতারা, যা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনের অংশ ছিল।
জমিয়ত নেতারা মন্তব্য করেন, "কোনো ব্যক্তি বা ইসলামিক দলের নেতাকর্মীদেরই ভাস্কর্য হোক সকলই ইসলামি শরিয়া মোতাবেক অবৈধ।"
অধিবেশনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলম সভাপতিত্ব করেছেন, এবং সঞ্চালনা করেছেন মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানী ও মুফতি নুরুল আলম ইসহাকী। এ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদদীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন এবং প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী প্রমুখ।
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক অধিবেশনে বলেন, "গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দেশের সব রাজনৈতিক দলই একমত।" তবে তিনি জানালেন, জুলাই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, "জাতীয় সনদ নিয়ে এ ধরনের ধাক্কাধাক্কির এবং হলগুলোতে ছাত্রদের মারামারির ফলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ সুগম হচ্ছে।" এ সময় তিনি সবাইকে বিভেদ ও বিরোধে না জড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে আহ্বান করেছেন।
মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, "জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষকে উপেক্ষা করা যাবে না। সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও আপত্তিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া নোট অব ডিসেন্টের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি, এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।
মাওলানা আফেন্দী বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা।" তাই তিনি সতর্ক করেছেন, শুধু রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের আলোচনা করলেই হবে না; বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকটও সমাধান করতে হবে।
বক্তারা গুরুত্বারোপ করেছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। কারণ, জনগণের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। বাজার সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান বক্তারা।
তারা ওই অধিবেশনে উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাই জনগণের শোক, দুঃখ ও কষ্ট উপলব্ধি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
কাউন্সিল অধিবেশনে মুফতি মাহবুবুল আলমকে সভাপতি, মুফতি নুরুল আলম ইসহাকীকে সাধারণ সম্পাদক, মাওলানা আনোয়ার হামিদীকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মুফতি শাব্বির আহমদকে প্রচার সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন