প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদকসেবিকে আটক করার কারণে পুলিশ সোপর্দ করার বিষয়টি নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা দুই যুবককে গুরুতর আহত করেছে। এই ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে মধুপুর পৌরশহরের টেংরী গোরস্থান পাড়া এলাকায়।
আহতরা হলেন টেংরী গ্রামের মৃত সাধু ফকিরের ছেলে বাদশা ফকির (৫০) এবং একই এলাকার হাতেম আলীর ছেলে রতন মিয়া (২২)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টেংরী গোরস্থান মোড়ের মৃত আমিনুল ইসলামের স্ত্রী মেরি, তার ছেলে শুভ, সৌরভ এবং তাঁদের সবার মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও সেবনের কারণে একাধিক মামলা রয়েছে। গত বুধবার ১৫ জুলাই দুপুরে তাঁদের কাছে মাদক কিনতে আসা ধলপুর গ্রামের ফারুক আলম সরকার নামের এক যুবককে মাদকসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। এই ঘটনা মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার রাতে টেংরী গোরস্থান মোড়ের মৃত আমিনুল ইসলামের স্ত্রী মেরি, বাচ্চু মিয়া এবং তার বোন নাহার আক্রমণ করে। এই আক্রমণের সময়ে তাদের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন বাদশা ফকির ও রতন মিয়া। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মধুপুর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন (মুসা) জানিয়েছেন, টেংরী গ্রামে মেরি এবং তার সন্তানরা নিয়মিত মাদক ব্যবসা করে আসছে। একাধিকবার তাঁরা পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাও ভোগ করেছেন। কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু বললে, তাঁরা তাতে আক্রমণ করে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং মধুপুর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেওয়ার জন্য একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছেন।
মধুপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন বলেন, মধুপুরে মাদকের ভয়াল থাবায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, মাদকমুক্ত নিরাপদ মধুপুর গড়ার জন্য এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এসময় তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত হয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি বাড়াতে বলেছি। আমি এখনো অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন