প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর প্রেক্ষাপটে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে তা প্রচারের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি ২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় (রিট পিটিশন নং ১৩৮৮৫/২০২৬) আসিফ মাহমুদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এই রিট দায়ের করেন। রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক কর্তৃক অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ের আইনি কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে তিনটি প্রধান বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা ও প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার আইনগত কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে কেন তা বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসিফ মাহমুদ বা অন্য কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে তদন্ত বা অনুসন্ধান চলাকালীন প্রেস ব্রিফিং করে সম্মানহানি, প্রোপাগান্ডা কিংবা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে দুদক ও সংশ্লিষ্টদের ওপর নির্দেশনার আবেদন করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, সংবাদ সম্মেলনে জনসমক্ষে আসিফ মাহমুদের মর্যাদা ও সুনামের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে, সেই কারণে একই গুরুত্ব ও প্রচার দিয়ে দুদককে পুনরায় প্রেস ব্রিফিং করে ভুল স্বীকার করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করার বা প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করার মতো যে আইনি কর্তৃত্ব দুদকের নেই—তা স্পষ্ট করে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানানো হয়।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কেবল অনুসন্ধান শেষে উঠে আসতে পারে। কিন্তু অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদকের উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালক আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি বাণিজ্য, ডিএনসিসির প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন ও বিদেশে অর্থপাচারসহ বহুবিধ অভিযোগ তুলে ব্রিফিং করেন। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে উক্ত বক্তব্যকে 'স্লিপ অব দ্য টাং' বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বলা হলেও গণমাধ্যমে তার কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার বা বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়নি।
আইনজীবী আরও জানান, এই ধরনের প্রোপাগান্ডা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা নাগরিকের জীবন, মান-মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, তার সরাসরি লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর নীতিমালারও স্পষ্ট ব্যত্যয়।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো অবাস্তব। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির যে বিষয়টি আনা হয়েছে, তা তার পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়, ফলে সেখানে তার সম্পৃক্ততা আইনগতভাবে অসম্ভব। রিটে অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই 'মিডিয়া ট্রায়াল' শুরু করা হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীদের প্রত্যাশা, শিগগিরই এই রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন