প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তি নয়; এটি ভবিষ্যতের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। সরকার এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং গবেষণা-উদ্ভাবনের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ল্যাব’ এবং ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এআই গবেষণা ল্যাবটি গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে সহযোগিতা করবে, গবেষণা পরিচালনা, উদ্ভাবনী প্রোটোটাইপ তৈরি এবং শিল্প-উপযোগী সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমানে শিক্ষাসহ স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, প্রশাসন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসছে। তাই নতুন বাংলাদেশ গড়তে, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা অপরিহার্য।
মন্ত্রী জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণ করছে এবং ভবিষ্যতে উপযোগী দক্ষ জনসংখ্যা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এআই গবেষণা ল্যাব দেশের শিক্ষা, শিল্প এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করবে এবং একটি শক্তিশালী উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া, মন্ত্রী জানান, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামীকাল বাংলাদেশের মূল শক্তি হবে। এআই এখন আর কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, বরং এটি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের লক্ষ্য হবে আইসিটি খাতে আগামী ৫ বছরে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।'
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ১৪৫টি এআই প্রকল্পের মধ্যে থেকে সম্ভাবনাময় ও সেরা প্রকল্পগুলোকে সরকার এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্টার্টআপ ফান্ড ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে। তাছাড়া, সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, উদ্বোধিত ল্যাবে ফ্রন্ট ল্যাব হিসেবে ২৫টি এনভিডিয়া ডিজে স্পার্ক (NVIDIA DJ Spark) পিসি এবং ৫টি বিশেষায়িত আরটিএক্স ৩০৬০ ও ৪০৯০ (RTX 3060 / 4090) জিপিইউ সমৃদ্ধ শক্তিশালী কম্পিউটার রয়েছে। বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যা সমাধান, এআই এজেন্ট ডেভেলপমেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রোডাক্ট সলিউশন তৈরির জন্য ল্যাবটিতে ৫ জন পূর্ণকালীন দক্ষ গবেষক নিযুক্ত রয়েছেন। ল্যাবটির গবেষক দল ইতোমধ্যে ‘এআই প্রফেসর’, ‘এআই প্রক্টর’ এবং ‘এআই রেজিস্ট্রার’-এর মতো যুগান্তকারী সলিউশন তৈরি করেছে এবং বর্তমানে তাদের ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে।
মন্ত্রী পরে এআই প্রকল্প প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ১৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৬ ক্যাটাগরিতে ১২টি বিজয়ী দলকে পুরস্কার বিতরণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আর. কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সামস ইকবাল এবং কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সারওয়ার হোসেন মোল্লাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন