প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে অবস্থান করছে। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল এখন চূড়ান্ত দফার আলোচনার জন্য আছে সিইপিএ নিয়ে। পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে তবে ৪ আগস্ট এই চুক্তি সই হতে পারে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে টেলিফোনে সিইপিএ চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদ মন্ত্রী কিম জং-ক্বান। দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা ইতিবাচক বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সিইপিএ চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় এমন সব পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ বেশ কিছু সুবিধা পাবে। এ পর্যন্ত চারটি বিষয়ে চুক্তির জন্য দুই দেশ একমত হয়েছে। বাকি আটটি বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা এখনও চলছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাটপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকবে। এলডিসি থেকে উত্তরণ পরেও এই সুবিধা বজায় থাকবে। কিছু পণ্য রুলস অব অরিজিনের আওতায় থাকবে। আইটি, প্রকৌশল, আর্থিক সেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবা খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগও দেওয়া হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানো, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, পণ্য দ্রুত ছাড় দেওয়া এবং ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপারটি) পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট সুরক্ষা সহ চুক্তির বাস্তবায়নে কোনো বিরোধ হলে তা সমাধানের বিষয়ে শর্ত সেট করা হয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এটি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যেখানে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।
দ্বিপক্ষে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক পণ্য। বিপরীতে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মেশিনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন