প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতির একটি বড় সাফল্য দেখেছে দেশবাসী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ধ্রুপদী কায়দায় অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবার একটি বিশাল চালান আটক করেছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কোটি টাকার বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ি জব্দ করা হয় এবং চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই দুঃসাহসিক তদন্তটি সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা কোতোয়ালি থানাধীন ঝাগরঝুলি এলাকায় কৃষ্ণনগর নামক স্থানে পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারিরা হলেন—কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার স্বর্ণফুল ক্লাব এলাকার আলী আকবরের ছেলে মো. ফয়সাল (২৫) এবং একই থানার ফুলতলা এলাকার মৃত সাকের আহম্মদের ছেলে আমান উল্লাহ (৩৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি কুমিল্লা একটি বিশেষ আভিযানিক দল বুঝতে পারে যে, কক্সবাজার থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিলাসবহুল গাড়িতে করে মাদকের একটি বিশাল চালান রাজধানীতে পাচার করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির টিমটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে সন্দেহভাজন প্রাডো গাড়িটিকে নিজেদের নজরদারিতে নেয়।
অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে গাড়িটিকে দূর থেকে গোপনে অনুসরণ করা হয়।
অবশেষে, গাড়িটি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানাধীন ঝাগরঝুলি এলাকার কৃষ্ণনগর পয়েন্টে পৌঁছামাত্র ডিবির চৌকস টিম অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাস্তা ঘিরে ফেলে গাড়িটিকে থামতে বাধ্য করে। এরপর গাড়ি তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অভিনব কায়দায় লুকানো একটি নীল রঙের লাগেজ উদ্ধার করা হয়।
এ মহান লাগেজের ভেতরে ৩০টি ইট সদৃশ প্লাস্টিকের প্যাকেট পাওয়া যায়, যার ভেতরে বিশেষ প্রযুক্তিতে মোড়ানো জিপারযুক্ত বায়ুরোধক প্যাকেটে মোট ৩ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সংরক্ষিত ছিল। উদ্ধার করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা মাদক পাচারকারী চক্রের মূল ক্যাডার। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি ব্যবহার করে আসছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা গত রাতে কক্সবাজার থেকে এই ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। প্রথমে তারা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পৌছায়, সেখানে কিছুদিন অবস্থান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এরপর আজ সকালে চট্টগ্রাম থেকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেও শেষ রক্ষা হয়নি; ডিবির জালে আটক হয় তাদের এই অবৈধ সাম্রাজ্য।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির শেকড় উৎপাটনে পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি দিন দিন আরও কঠোর হচ্ছে। এই ঘটনার জন্য গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত অন্যান্য গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে রিমান্ড আবেদনসহ ব্যাপক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন