০৬:২৯ পি.এম
মহাকাশপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষের জন্য ২০২৭ সালের ২ আগস্ট একটি বিরল এবং শ্বাসরুদ্ধকর মহাজাগতিক মুহূর্ত আসতে চলেছে। ওই দিন পৃথিবীর আকাশে একটি বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যা এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে স্থলভাগ থেকে দৃশ্যমান দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই মহাজাগতিক ঘটনায় পৃথিবীর একাংশ প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের জন্য পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে। সাধারণ সূর্যগ্রহণ সাধারণত ৩ মিনিটের কম স্থায়ী হয়, কিন্তু এই গ্রহণটি তার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সময় স্থায়ী হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই বিরল ঘটনাটিকে ‘গ্রেট নর্থ আফ্রিকান ইক্লিপস’ নামে অভিহিত করেছেন।
নাসা জানিয়েছে, দক্ষিণ স্পেন, উত্তর আফ্রিকা (মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া এবং মিশর সহ), সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ইউরোপের বেশিরভাগ অংশ, আফ্রিকার অনেকাংশ, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, আটলান্টিক এবং ভারত মহাসাগরে আংশিক এই গ্রহণ দেখা যাবে।
আরও পড়ুন: ২ হাজার বছরের পুরোনো আঙুরের বীজে পাওয়া গেল আধুনিক মদের সূত্র
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণটি পূর্ব আটলান্টিকে শুরু হবে। এরপর এটি উত্তর আফ্রিকার মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া ও মিশর অতিক্রম করে মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরের কিছু অংশের ওপর দিয়ে সরে যাবে। বিশেষ করে মিশরের লাক্সর ও আসওয়ানের মতো শহরে এই পূর্ণগ্রাসের সময়কাল সবচেয়ে দীর্ঘ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবশেষে এটি ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের কাছে গিয়ে শেষ হবে। বিশেষ করে মিশরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সর এবং লিবিয়ার মতো অঞ্চলগুলোতে ৬ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে পূর্ণ অন্ধকার বিরাজ করবে। আগস্ট মাসে এই অঞ্চলগুলোর আকাশ সাধারণত পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকায় এটি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী দক্ষিণ স্পেনে দুপুর দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে এবং মিশর ও লিবিয়ায় দুপুর দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে এই পূর্ণ অন্ধকার দেখা যেতে পারে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে দৃশ্যটি সেভাবে উপভোগ করা যাবে না।
ভারতের পশ্চিম প্রান্তের কিছু অঞ্চলে সূর্যাস্তের সময় সামান্য আংশিক গ্রহণ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই গ্রহণের অস্বাভাবিক দীর্ঘ স্থায়িত্বের পেছনে বেশ কয়েকটি বিরল মহাজাগতিক কারণ কাজ করছে। ওই সময়ে, পৃথিবী সূর্য থেকে তার কক্ষপথের সবচেয়ে দূরে অবস্থান করবে এবং চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে। ফলে চাঁদকে পৃথিবী থেকে বড় এবং সূর্যকে সামান্য ছোট দেখাবে, যা গ্রহণটিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: চীনের প্রভাবের কারণে বড় চুক্তি বাতিলের পথে মেটা
যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদ সরাসরি চলে আসে, তখন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে থাকে। তখন দিনের আলো মুহূর্তের জন্য ম্লান হয়ে যায়।
তথ্যসূত্র: নাসা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন