প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০২:৩৫ এম || প্রকাশের তারিখঃ ২০ই আগস্ট, ২০২৬ইং; ১২:১১ পি.এম
নেছারাবাদে পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে চুরি-ডাকাতির অভিযোগ, গ্রাম্য সালিশে পরিবারসহ এলাকা ছাড়ার নির্দেশ
পিরোজপুরের নেছারাবাদে পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তিন গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের জানমাল রক্ষার দাবিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্ত মো. রফিক হাওলাদার ও তার ছেলে নাইমসহ পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রফিক হাওলাদার অভিযোগ স্বীকার ও অস্বীকারের মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ছেলে এর আগে চুরির ঘটনায় জড়িয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে স্বরূপকাঠি পৌরসভার জগৎপট্টি গ্রামে এ সালিশি অনুষ্ঠিত হয়। সালিশিতে জগৎপট্টি, জগন্নাথকাঠি ও শর্ষিনা গ্রামের ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, মাষ্টার আতিকুল ইসলাম, আনিসুর রহমান বাদলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সালিশে রফিক হাওলাদারকে পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে তিনি বিষয়টি মেনে নিয়ে সময় চান। পরে তাকে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে গ্রাম্য সালিশে দেওয়া এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি বা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষ ণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিক হাওলাদার ও তার ছেলে নাইম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কয়েকদিন আগে শর্ষিনা গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়িতে দিনের বেলায় ডাকাতির অভিযোগ ওঠে নাইমের বিরুদ্ধে। এ সময় ইলিয়াসের স্ত্রী নাজমা, তার নয় বছরের মেয়ে ও প্রতিবেশী মুইনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নাইম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
সালিশাররা জানান, এর আগেও চুরির ঘটনায় নাইম গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় তিনি অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ তাদের। জগৎপট্টি, জগন্নাথকাঠি ও শর্ষিনা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, রফিক হাওলাদার প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে জগৎপট্টি এলাকায় বসবাস করছেন। তার মূল বাড়ি উজিরপুরের মিরেরহাট এলাকায়। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি শ্বশুরবাড়ির এলাকায় এসে শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বালু বহনের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি রফিক বালু ও ইট চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। চুরির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, তার প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের জমি, তিনতলা ফাউন্ডেশনের একতলা বাড়ি, টমটম ও ভ্যানগাড়ি রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রফিক হাওলাদার বলেন, তার ছেলে নাইম শর্ষিনা গ্রামের ইলিয়াসের বাড়িতে যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। এর আগেও তার ছেলে এলাকায় চুরি করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এ কারণে এলাকাবাসী সালিশ বসিয়ে তাকে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
রফিক বলেন, সালিশে তিনি এক বছর সময় চেয়েছিলেন। পরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাকে এক মাসের সময় দিয়েছেন। স্থানীয়দের বুঝিয়ে যদি থাকতে পারেন, তাহলে তিনি জগৎপট্টিতেই থাকবেন। নিজের সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকের কাজ করে পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জন করা অর্থ দিয়েই জমি ও বাড়ি করেছেন।
সালিশের প্রধান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, পিতা-পুত্রের কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী আতঙ্কিত। তার ছেলে ধারাবাহিকভাবে অপরাধ করে যাচ্ছে। এ কারণে তিন গ্রামের মানুষ সম্মিলিতভাবে তাদের এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"