প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপে ফুটবলের শক্তি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নেদারল্যান্ডস এবং মরক্কোর মধ্যে তুলনা করা হয়তো অনেকের কাছে অসঙ্গত ঠেকাতে পারে। একটি দল যাঁরা কখনো বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে পারেনি কিন্তু বরাবরই ফেবারিট হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে, আর অন্য একটি দল যিনি সর্বশেষ আসরে সেমিফাইনালে গিয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু, আজ মেক্সিকোর মনতেরেইতে রবিবার অনুষ্ঠিতব্য এই দুই দলের লড়াইটিকে ফুটবলবোদ্ধারা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ হিসেবে দেখতে চান। মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপের বাইরেও এই ম্যাচটিকে ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন আলোচনা, যা মাঠের বাইরের সমীকরণ এবং বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের শুরু হয়েছে সাবেক ডাচ ফুটবলার ও বর্তমান বিশ্লেষক রাফায়েল ফন ডার ভার্টের মন্তব্যের মাধ্যমে। তিনি গত মার্চে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দাবি করেন যে, যারা ডাচ দলে খেলার যোগ্য নন, শুধুমাত্র তাঁরাই মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। ফন ডার ভার্টের এই বক্তব্য ডাচ এবং মরোক্কান ফুটবলের সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরেছে। ঐতিহ্যগতভাবে নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মরোক্কান নাগরিক বসবাস করছেন। এর প্রভাব বর্তমান মরক্কো দলের খেলোয়াড়দের ওপরও পড়েছে। দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সোফিয়ান আমরাবাত, নুসায়ের মাজরাউই ও আনাস সালেহ এদ্দিন নেদারল্যান্ডসে বেড়ে উঠেছেন এবং ফুটবল খেলায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এর ফলে, তারা চাইলে ডাচ জার্সি পরতে পারতেন, কিন্তু তাঁদের পছন্দ ছিল মরক্কো। এই সম্পর্কের কারণে আজকের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসপ্রবাসী মরোক্কান সমর্থকদের উপস্থিতিকে ডাচরা ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ হিসেবে দেখতে পাচ্ছে। ডাচ পুলিশও এই ম্যাচের আগে সমর্থকদের শান্ত থাকার জন্য প্রার্থনা করেছে।
চলতি বিশ্বকাপে দুই দলের পারফরম্যান্সও নজর কাড়ার মতো। নেদারল্যান্ডস জাপানের সঙ্গে একটি ড্র হলেও সুইডেন এবং তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়ার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, মরক্কোও ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করে এবং স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে হারিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। দলের সাফল্যের কারণে ডাচ কোচ রোনাল্ড কোমান মরক্কোকে নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। তিনি সরাসরি নিজেদের ফেবারিট বলার পরিবর্তে প্রতিপক্ষের গোল করার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু কোমানের কাছে মধুর স্মৃতিও রয়েছে। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে তিনি অধিনায়ক হিসেবে মাঠে ছিলেন এবং ডাচরা সেই ম্যাচে জয়ী হয়েছিল। মরক্কোকে পরাস্ত করার কৌশল কোমানের জানা রয়েছে, তিনি আজকের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পুরনো অর্জনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর একটি বড় সুযোগ পেয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, মাঠের খেলায় ডাচদের কৌশল, নাকি মরক্কোর অদম্য স্পৃহা শেষ হাসি হাসায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন