প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে এই হামলা কার্যকর করা হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। একই দিনে দিনের বেলাতেও মার্কিন বাহিনী ইরানে একটি হামলা চালিয়েছিল।
সেন্টকম অধিকৃত তথ্যে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কুরাকাওয়ের পতাকাবাহী এম/টি বেলমা নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যেতে চেষ্টা করছিল। একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ট্যাংকারটির চিমনির দিকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর ফলে ট্যাংকারটি অচল হয়ে পড়ে।
হামলা পরবর্তী সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, বন্দর আব্বাস, চাবাহার এবং ইরাক সীমান্তসংলগ্ন আহভাজ শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে একটি ক্যানসার বিশেষায়িত হাসপাতালের কাছেই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে।
হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে ইরানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হোসেন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট দিয়ে জানান, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র শব্দ ও প্রচণ্ড কম্পনের কারণে আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতাল থেকে অনেক রোগী এবং তাদের স্বজনেরা পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে শুধুমাত্র সবচেয়ে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা সেখানে রয়েছেন।
ইরানের সেতুগুলোর ওপর হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘আমি কোনো সময়সীমা দিতে পছন্দ করি না। তবে তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো করেই জানেন। তাদের ভালো আচরণ করা উচিত।’
চলমান হামলার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সংসদের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক থেকে ইরান যদি কোনো সুফল না পায়, তাহলে সেটি মেনে চলারও কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তিনি বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সশস্ত্র প্রতিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ারও পথ খোলা থাকবে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দক্ষিণ ইরানে গত কয়েক দিনের মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৬০ জনের বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন