প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি স্থানীয় সালিসের অপমানের কারণে সোহরাব উদ্দিন (৬০) নামে এক ব্যক্তির গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে, তার নিজ বাড়ির পেছনের একটি আমগাছের ডাল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মেরাকোনা গ্রামে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহরাব উদ্দিনের পুত্রবধূ গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান। অভিযোগ রয়েছে যে, সেই সময় শ্বশুর সোহরাব উদ্দিন তাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণচেষ্টা চালান।
ঘটনার পরদিন, পুত্রবধূ তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ক্ষোভ ও অপমানে। সেখানে থাকা অবস্থায় তিনি শ্বশুর সোহরাবের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগের পর, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সোহরাবের বাড়ির সামনে গত শুক্রবার একটি সালিস বৈঠক বসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই সালিস বৈঠকে সোহরাব উদ্দিনকে অত্যন্ত অপমান ও হেনস্থা করা ছাড়াও জরিমানাও করা হয়। সেইসঙ্গে বলা হয়, সকল জমিজমা চার ছেলের নামে লিখে দিতে হবে এবং বাড়ি ছাড়তে হবে। উল্লেখ করা হয় যে, আগামী বুধবার ফের সালিসের আয়োজন করা হবে এবং ওই দিন সমস্ত ফয়সালা হবে।
এরপর, গত সোমবার সোহরাব হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজেও তার হদিস পাননি। পরে জানা যায়, তিনি নিজ বাড়ির পেছনে একটি আমগাছের ডালে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, লোকলজ্জা ও সালিসে অপমানের কারণেই সোহরাব আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে উজ্জল মিয়া জানিয়েছেন, তার স্ত্রী থানায় অভিযোগ দেওয়ার পূর্বে তাকে জানিয়েছিলেন। এরপর দরবারে বাবাকে ডেকে নিয়ে শাসন করা হয়। আরও একটি দরবারের ঘটনা তুলে ধরে তিনি কমপক্ষে এ ঘটনায় বাড়ি ছেড়েছেন। পরে আমগাছের ডালে তার লাশ পাওয়া যায়।
সালিসে শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া মিল্টন এবং স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যানের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে মেম্বার বাবুল জানান, সালিসে তিনি উপস্থিত ছিলেন। নারীর অভিযোগ ছিল যে, রাতে দাড়িওয়ালা এক লোক মুখ চেপে ধরে মারধর করেছে। ওই ঘটনায় গ্রামে অনেক গুঞ্জন ছিল বলে দরবারে সোহরাবকে শাসন করা হয়। বলা হয়েছিল, তিনি অথবা তার ছেলেরা বাড়িতে থাকবেন। এই কারণে পরবর্তী সালিসের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পুত্রবধূর দেওয়া লিখিত অভিযোগ তদন্ত করেছিলেন নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক পলাশ। তিনি জানান, তদন্ত করতে গিয়ে বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ার কারণে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন