প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৪:৩৬ এম || প্রকাশের তারিখঃ ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং; ০৯:৩০ পি.এম
বানারীপাড়ার উদয়কাঠীতে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেলেন রাসেল হুজুরের পরিবার
দীর্ঘ ৪৫ বছর ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধের অবসান হয়েছে বরিশালের বানারীপাড়ায়। স্থানীয়ভাবে সালিশ, কাগজপত্র যাচাই ও জমি পরিমাপের পর প্রকৃত মালিকের পরিবারকে ৮ কাঠা জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জমি ফিরে পাওয়ার পর মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে উদ্ধারকৃত সম্পত্তির মধ্য থেকে ৭ শতাংশ জমি স্থানীয় মসজিদের নামে দান করেছেন হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল হুজুরের পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৭ নম্বর তেতলা মৌজায়।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেতলা মৌজার এসএ ১২২ খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক চাঁদবরুর কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে শাহসের আলী ও তাঁর ছেলেরা ওই জমির স্বত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে তাঁদের কাছ থেকে দুটি পৃথক খণ্ড দলিলের মাধ্যমে মোট সাড়ে ১২ কাঠা জমির মালিকানা পান মো. ওয়াজেদ আলী মিয়া, পিতা—নবীর উদ্দিন ঘরামী।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ২০১৮ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে স্থানীয় হুমায়ুন কবির (গাজী) মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের সাড়ে ১২ কাঠা জমির মধ্যে ৮ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ওয়াজেদ আলী মিয়ার পরিবার ও হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল হুজুর জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের নজরে এলে তাঁদের মধ্যস্থতায় শেরেবাংলা বাজারে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয় পক্ষের দলিলপত্র যাচাই-বাছাই এবং বিরোধপূর্ণ জমি সরেজমিনে পরিমাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচজন অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার যৌথভাবে জমিটি জরিপ করেন। তাঁরা হলেন—আউয়ার নিবাসী মো. সাইদুর রহমান, তেতলা নিবাসী বিজয় মহুরী, নান্দুহার নিবাসী মহারাজ, শুটিয়াকাঠী নিবাসী জসিম এবং বাইশারী নিবাসী মো. আ. খালেক।
জরিপ ও পরবর্তী সমন্বয়ের পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর (২ আশ্বিন) উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সরেজমিনে রাসেল হুজুরের পরিবারকে ৮ কাঠা জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় হুমায়ুন কবিরের মুরগির খামারের একটি অংশ রাসেলের জমির সীমানার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিশেষ বিবেচনায় পশ্চিম সীমানা থেকে ৮ ফুট চওড়া করে উত্তর সীমানা পর্যন্ত জায়গা তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দক্ষিণ সীমানা রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত সমন্বয় করে রাসেল হুজুরের ৮ কাঠা জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান এবং জমি ফিরে পাওয়ার পর হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল হুজুর উদ্ধারকৃত সম্পত্তির মধ্য থেকে ৭ শতাংশ জমি স্থানীয় একটি মসজিদের নামে দান করে দেন। বর্তমানে ওই জমিতে নির্মিত মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নিয়মিত পাঞ্জেগানা নামাজ আদায় করছেন।
জমি ফিরে পাওয়ার ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে কাগজপত্র ও পরিমাপের ভিত্তিতে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে একটি জটিল সমস্যার সমাধান হয়েছে।
এ ঘটনায় বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"