প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের সেলিম বাজার ও কালাদুর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে নদীর তীরে আয়োজিত মানববন্ধনে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে। তারা অভিযোগ করেন, বরাদ্দ দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে কাজ শুরু হয়নি। পরে যথাযথ নকশা অনুসরণ না করে জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
মানববন্ধনে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করার, প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তের এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সাথে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তারা বলেন, গত ১৭ মে পানিসম্পদমন্ত্রী ও এমপি শাহজাহান এই এলাকায় পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেন। তারপরও মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে সেলিম বাজারের দক্ষিণ পাশের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভাঙন রোধে বরাদ্দ দেওয়ার পরও কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও স্থানীয় অবকাঠামো ভাঙনের শিকার হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে নির্ধারিত জরুরি কাজ সঠিকভাবে ও যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদীকূলে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করে করা কাজ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর কাজ শুরু হতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে ইতিমধ্যে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও সেলিম বাজারের চরম ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণচর উপজেলার পূর্ব চর বাটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম বাজার ও সৈয়দপুর এলাকার নদী ভাঙন রোধে ৪০০ মিটার করে মোট ৮০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তফা অ্যান্ড সন্স। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জেলা বিএনপি'র সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম কিরণ। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মালিক হলেও তার লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ দুটি করছেন জেলা বিএনপি'র অন্য দুই নেতা। তাদের পক্ষে কাজ পরিচালনা করছেন একই দলের সদস্য মো. ফরহাদ।
সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটিকে ঠিকাদারি কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নকশা সরবরাহ করা হয়নি। এর মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে না জানিয়ে নিজেদের মত করে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেন। সরেজমিনে গিয়ে তাদের অনিয়ম প্রমাণ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ফরহাদ জিও ব্যাগ ফেলার কাজে ত্রুটির বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন এবং বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আগ্রহের প্রেক্ষিতে তারা কাজটি শুরু করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা তাদের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাদের মূল নকশা তো দেওয়া হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক উঠার পর তারা কাজ বন্ধ রেখেছেন। সমস্যা প্রকল্প স্থলে পল্টুন এনে কাজ শুরু করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী নকশা ছাড়াই তাদের খেয়ালখুশি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সেখানে নতুন করে কাজ শুরু হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন