প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাইফুন বাভি উত্তর কোরিয়ার দিকে এগিয়ে আসায়, পিয়ংইয়ং মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য দেশের নেতা কিম জং উন কর্তৃক ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ায় দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। এ খবর সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোডং সিনমুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করার পূর্বে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
পত্রিকাটি জানাচ্ছে, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে। কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোডং সিনমুন জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। পশ্চিম উপকূল ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।
গত সপ্তাহে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, উত্তর কোরিয়া দুর্যোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করেছে।
এদিকে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াতে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটেছে। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশে কয়েক শত বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে এবং অনেকে বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেন।
সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার কারণে সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।
সিউলের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণের জিওল্লা প্রদেশে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে।
গত গ্রীষ্মটি দক্ষিণ কোরিয়াতে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ছিল। একইভাবে দুই কোরিয়াতেই এবারের জুন মাসও রেকর্ড উষ্ণ ছিল।
এ বছর এল নিনোর ফিরে আসাও ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের এ প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রবণতা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংকট বিদ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অধিকাংশ বাসিন্দার ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন