প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর এবং ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত করেছে জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে চত্বরটি ভাঙা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
১৪ জুলাই শুরু হয়ে ভাস্কর্যটির ভাঙার কাজ চলছিল। ভারি ভারি যন্ত্রপাতি নিয়ে শ্রমিকরা ১৭ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত ভাঙচুর চালান। কিন্তু নির্দেশদাতার নাম প্রকাশিত হয়নি। আবার ভাঙার কাজ বন্ধের ব্যাপারেও কিছু জানা যায়নি।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মেজো ভাই হামরুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমান এ ঘটনায় নিন্দা করে যথাস্থানে ভাস্কর্যটি স্থাপন করার দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও একই দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঝিনাইদহ ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন; তবে রহস্যজনকভাবে নির্দেশদাতাকে আড়াল করতে ওই স্মারকলিপিতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ম্যুরাল অপসারণপূর্বক উপযুক্ত জায়গাতে পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে ভাস্কর্য ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেদির একটি বড় অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; কিন্তু মূল ভাস্কর্যটি আগের মতোই আছে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, জেলা শহরের প্রবেশ মুখে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ৪ রাস্তার মোড়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর কয়েক দফা পরিদর্শন করা হয়েছে। দুপুরের দিকে দেখা গেছে, ভাস্কর্যটির পাশে আগাছার আড়ালে পাথরে খোদাই করা একটি স্টোন লটকানো রয়েছে। ওই পাথরের ওপর স্পষ্ট লেখা রয়েছে বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর চত্বর। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরোজ কুমার নাথ জেলা প্রশাসক ঝিনাইদহ এবং আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু মেয়র ঝিনাইদহ পৌরসভা। বাস্তবায়নে প্রকৌশল বিভাগ ঝিনাইদহ পৌরসভা।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, ভাস্কর্যটি নির্মাণের বিষয়ে কোনো ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ভাস্কর্যটি ভাঙার বিষয়ে তথ্য তার জানা নেই। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ জানিয়েছেন, ভাস্কর্যটি পৌরসভার নিজস্ব অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে- এই খবর সঠিক। তবে বিষয়টির নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলার প্রধান নির্বাহী সেলিম রেজা জানান, ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে জেলা পরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি এবং লেবার খরচও দেয়া হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষেরও একই মত রয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ৬ লেন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। সেই কারণে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ হবে বলে তিনি জানান।
জানা যায়, ওই সময় ভাস্কর্যটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২ লাখ টাকা। পৌরসভার রাজস্ব খাত থেকে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হয়। পাথর দিয়ে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বিশাল বেদি তৈরি করা হয়; কিন্তু নিয়োগকৃত ভাস্কর কিছুতেই হামিদুর রহমানের মুখাকৃতি খোদাই করতে পারেননি। এর ফলে নির্মাণ কাজ থমকে যায়। ভাস্কর্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন। ভাস্কর্যটির উচ্চতা ছিল প্রায় সাড়ে ৬ ফুট।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী ভাস্কর্যটি শেখ মুজিবুর রহমানের- এই প্রচার হওয়ার পর ভেঙে ফেলার জন্য একটি মহল পাঁয়তারা শুরু করে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলতে চাপ সৃষ্টি করছে ওই মহলটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন