প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুয়েতের তেল খাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কয়েক মাস ধরে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ফলস্বরূপ, দেশটির তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কুয়েতের সরকারি রাজস্বের ৯০ শতাংশের বেশি এবং প্রায় পুরো রপ্তানি আয়ই তেলনির্ভর, এই অবস্থার ফলস্বরূপ কুয়েতের জন্য একটি বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
কুয়েতের তেল রপ্তানির প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের কোন বিকল্প পাইপলাইন কুয়েতের নেই। ফলে যুদ্ধের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং এর ফলে দেশটির তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (কেপিসি) প্রধান নির্বাহী শেখ নওয়াফ সৌদ আল-সাবাহ বলেন, ১৯৯০ সালে ইরাকের আগ্রাসনের পর এই সংকটই কুয়েতের তেল খাতের সবচেয়ে বড় সংকট। সেই সময় ইরাকি বাহিনী শত শত তেলকূপে অগ্নিসংযোগ করে এবং তেল স্থাপনা ধ্বংস করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।
বর্তমান যুদ্ধে এমন ব্যাপক ধ্বংস না হলেও কুয়েতের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে একটি চুক্তিগত দায়পূর্ণ করতে অক্ষমতার কারণে কেপিসি 'ফোর্স মেজর' ঘোষণা করে, যা একটি আইনি কৌশল হিসাবে কাজ করে, যা কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত করে যখন তারা অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা পূরণে অক্ষম হয়। জুন মাসে এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া ইরানের হামলার ফলে পানি শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনার উপর ক্ষতি হয়েছে। এপ্রিলে কেপিসির সদর দপ্তরেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
যুদ্ধের আগে কুয়েত প্রতিদিন ২৬ লাখ ব্যারেলের কিছু বেশি তেল উৎপাদন করত। ২০৪০ সালের মধ্যে উৎপাদন ৪০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনাও ছিল কুয়েতের।
কেপিসি প্রধানের আশা, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং কুয়েত দ্রুত যুদ্ধ-পূর্ব উৎপাদনমাত্রায় ফিরতে পারবে, এমনকি তা ছাড়িয়েও যেতে পারবে।
সূত্র: ডন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন