প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করতে চার দফা আলোচনা হলেও লেবানন ও ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে। যদিও গত এক বৈঠকে সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি রোডম্যাপ নিয়ে একযোগী চুক্তিতে পৌঁছেছে।
এই চুক্তির প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনে পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে।
মঙ্গলবার এই আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং এতে লেবানন ইস্যুর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ছাড়া বিকল্প নেই। গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লেবানন-ইসরায়েল চার দফার আলোচনা ইতিমধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং চলতি সপ্তাহে সংঘাতের অবস্থার কিছুটা অবনতি পরিলক্ষিত হয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে, যা লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধ করার কথা উল্লেখ করে।
বিশ্লেষকরা বলেন, এই সমঝোতা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে এবং লেবাননের সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনসহ লেবাননের শীর্ষ নেতারা বলেছিলেন, তেহরান লেবাননের কথা বলতে পারে না।
লেবাননের একজন কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা আসলে লেবাননের আলোচনার অবস্থানকে দুর্বল করেছে এবং এই সপ্তাহের আলোচনার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এবং ইসরায়েলের মধ্যে এখনও মৌলিক আস্থার সংকট বিদ্যমান। আমরা তাদের দাবিগুলো পূরণ করতে পারি না, এবং তারা আমাদের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।’
আসন্ন আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি গ্রহণ করা। বরং ইতিমধ্যে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের সেনারা সেখান থেকে অনির্দিষ্টকাল অবস্থান করবে।
ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বলেছেন, আলোচনার উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং লেবাননের সঙ্গে প্রকৃত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো। তিনি দাবি করেন, ‘লেবাননের সঙ্গে চুক্তির পথে প্রধান বাধা হলো হিজবুল্লাহ। তাই আমরা বিশ্বাস করি, তাদের নিরস্ত্র ও ভেঙে দেওয়া উচিত।’
অন্যদিকে লেবানন সরকার গৃহযুদ্ধের শঙ্কায় হিজবুল্লাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করে ধীরে ধীরে তাদের নিরস্ত্রীকরণের পথ অনুসরণ করছে। হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক করিম সাফিয়েদ্দিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় আলোচনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে ‘অসন্তুষ্ট ইসরায়েল’। তিনি উল্লেখ করেন, ‘লেবে আপাত শান্তি এলেও দুই পক্ষের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন হয়নি, যা আলোচনায় বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।’ হিজবুল্লাহর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুলবে। তাই সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে তেহরানের কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর নির্ভর করা উচিত বলে মনে করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন