প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে তারা নিহতের কবর জিয়ারত করেছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিকদের করা একটি প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে যারা নিহত হচ্ছেন, তাদের একমাত্র পরিচয় হচ্ছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশি হওয়ার কারণে সীমান্তে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে তিনি ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও শুধুমাত্র বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্ত এলাকায় হাসপাতাল, বিদ্যালয়-কলেজ, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় উপেক্ষা করে শুধুমাত্র অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিলে সীমান্তবাসীর দুর্ভোগ কমবে না।’
তিনি আরো বলেন, ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং শক্তিশালী এবং মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। একই সাথে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, টহল যান, অবকাঠামোগত সুবিধা, এবং উন্নত বেতন কাঠামোর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। সীমান্তে যে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে তা আর হওয়া উচিত নয়। সীমান্ত এলাকার মানুষকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে প্রত্যেক সীমান্তবাসীকেই দেশের নিরাপত্তায় সৈনিকের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে। এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, যদি বিএনপি জনগণের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কথা বলতে পারে, তাহলে এনসিপি শুধু বিরোধীদল হিসেবেই নয়, দেশের ছাত্রজনতাও তাদের পাশে থাকবে। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী এবং নিহত মুজিব আলীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন