প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর তামিল সিনেমার সুপারস্টার ও বর্তমানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি থালাপাতি বিজয় নামেই অধিক পরিচিত, কারুরে এক সমাবেশে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেদিন, মানুষ বিজয়কে এক নজর দেখতে ঢল নেমেছিল। কিন্তু মানুষের সেই ঢল সামাল দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এই কারণে প্রচণ্ড গরম ও হুড়োহুড়িতে ৪১ জন মানুষ মারা যায়। পরে বিজয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি রাজ্যে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মধ্যে দ্রাবিড়ীয় ক্ষমতার পালাবদলের ৫৯ বছরের আধিপত্য ভেঙে দেন।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও তিনি পদপিষ্ট হয়ে মারা যাওয়া পরিবারগুলোকে ভুলে যাননি। বিজয় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদেরকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিরোধী দল ডিএমকে, এআইএডিএমকে এবং সুশীল সমাজ এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা আইনজীবী ও কিছু নাগরিকের মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আদালতে মামলা করে।
১০ জুলাই ঘটনার পর বিজয়ের প্রথম কারুর সফরের দিন আদালত সাময়িকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণের অনুমতি দেয়। বলাই ছিল, মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর নিয়োগপত্রের বৈধতা নির্ভর করবে। সাময়িক অনুমতির সুবিধা নিয়ে বিজয় সেদিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৩২ জন সদস্যের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। কিন্তু আজ মাদ্রাজ হাইকোর্ট সরকারের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। আদালত জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ (সমতার অধিকার) এবং অনুচ্ছেদ ১৬ (সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা)-এর বিরোধী।
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও একসাথে একই জাতীয় চাকরির দাবি জানানোর রাস্তা খুলে দেবে। আদালতে আবেদনকারী আইনজীবীরা বলেন, কোনো দুর্ঘটনা বা রাজনৈতিক সভার ট্র্যাজেডিতে নিহতদের পরিবারকে সরাসরি সরকারি চাকরি দিলে সাধারণ এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার খর্ব হয়। তারা আরও জানান, কারুর ট্র্যাজেডি বর্তমানে সিবিআই তদন্ত করছে। বিরোধী দল ডিএমকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত চাকরি দেওয়া হলে তা মামলার সাক্ষী ও তদন্তকে প্রভাবিত করবে।
এআইএডিএমকে-এর সিনিয়র নেতা আর বি উদয়কুমার ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ পরিবারের লাখ লাখ যুবকের জীবিকার ওপর আঘাত হানে, যারা সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি চাকরি দেওয়া একটি ভুল পদ্ধতি। এটি রাজ্যের তরুণদের জন্য একটি মর্মান্তিক এবং ভুল নজির স্থাপন করে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন