প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ময়না খাতুন (২০) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং তার লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিষয়ে ধামাচাপা দিতে, গৃহবধূর মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।
ময়না খাতুনের পরিবার অভিযোগ করেছেন যে, স্বামী শামীম সরকার ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহত ময়না খাতুনের স্বামী শামীম সরকার আত্মগোপনে রয়েছেন।
এটি ঘটেছে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা ঝুরঝুড়ি আমসারা গ্রামে। নিহত ময়না খাতুন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কালিয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের একমাত্র কন্যা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৩ বছর আগে সামাজিকভাবে শামীম সরকারের সাথে ময়না খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী শামীম ও তার পরিবারের সদস্যরা ময়নাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বামী শামীম সরকার, শ্বশুর এবং শাশুড়ি একজোট হয়ে ময়নাকে মারধর করে হত্যা করেছে। এরপর ঘটনার শেষকে আত্মহত্যা হিসেবে পরিচালনার জন্য নিহতের লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পুরো পরিবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা যখন ঘরের ভেতর লাশ ঝুলতে দেখে তখন নিহতের পরিবার ও পুলিশে খবর দেয়।
নিহতের মা কহিনুর বেগম ও বাবা নজরুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, "আমাদের মেয়ে কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। জামাই শামীম ও তার মা-বাবা মিলে মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং ঘাতকদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের দাবি জানাই।"
কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনা সম্পর্কে বলেন, "মরদেহের সুরুত হালে ময়না খাতুনের গলায় ছিল রক্তাক্ত জখম। ফাঁসিতে নিহত হলে গলার নিচ দিয়ে কালো দাগের চিহ্ন থাকে কিন্তু গলায় কোন কালো দাগ দেখা যায়নি।"
এ বিষয়ে নিহত ময়না খাতুনের খালু বলেন, "জীবনে অনেক আত্মহত্যার মরদেহ দেখেছি কিন্তু রক্তাক্ত জখম দেখিনি। এতেই প্রমাণিত হয় যে, ময়না খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচার চালানোর অপকৌশল হয়েছে। আমি আশা করছি, সঠিক ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে ভিক্টিম ন্যায় বিচার পাবে।"
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের অভিযানে পুলিশ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন