প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনার কয়রা উপজেলায় নতুন সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে মাত্র তিন দিন আগে। তবে এই সময়ের মধ্যে পিচ উঠে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন এবং তারা ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলা মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা মনে করেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার পাশাপাশি নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ না করায় সড়কের এই অতি খারাপ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সেদিন বিকেলে দেখা গেছে, মাদারবাড়িয়া থেকে রোনবাগ গ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে নতুন কার্পেটিংয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় হাতের চাপ দিলেই পিচের আস্তরণ উঠে আসছে। সড়কের ওপর একটি রোলার গাড়ি থাকলেও সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের নতুন পিচ হাত দিয়ে তুলে দেখাচ্ছিলেন।
এদিকে সড়কের মাঝামাঝি অংশে নতুন একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও তার পাশেই পুরোনো একটি কালভার্ট ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার সারাদেশে কোথাও কোনো তথ্যফলক বা সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।
অভিযোগ উঠেছে, পুরোনো কালভার্ট অপসারণ না করেই তার ওপর দিয়ে পিচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছুদিন ধরে সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। তিন দিন আগে দেওয়া পিচের বিভিন্ন অংশ উঠে যেতে শুরু করার পর বাকি অংশে পিচ ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী বাধা দেন।
মহারাজপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জামাল ফারুক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাস্তার ওপর খুবই পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়েছে। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালু ও মাটির ওপর ঢালাই করা হয়েছে। তিন দিন আগে দেওয়া পিচ এখন হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে। আজ আবার ধুলাবালুর ওপর পিচ দেওয়া শুরু হলে এলাকাবাসী বাধা দেন। এর প্রতিবাদস্বরূপ স্থানীয় লোকজন সড়কের দুটি স্থানের কিছু অংশের পিচ তুলে ফেলেছেন। পরে সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
সড়কের পাশে অবস্থিত এক বাসিন্দা বলেছেন, তার বাড়ির পাশে রাস্তা রয়েছে এবং এরপরেই একটি খাল আছে। খালের পাড় ঘেঁষা অংশটা অনেক নিচু। সেখানে নতুন পিচ দেওয়ার পর রোলার চালাতেই ফাটল ধরা শুরু হয়েছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে বর্ষার সময় সড়কের ওই অংশ ধসে পড়বে।
জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ সড়কের এক কিলোমিটার উন্নয়ন, একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং বেদকাশী এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজ একই প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে 'মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স' নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কাজটি পায়। কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দায়িত্বে থাকা মো. হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আমাদের কাজে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি নেই। রাস্তার ওপরের অংশ কিছুটা উঠে যাওয়াকে অনেকেই সমস্যা ভাবছেন। কিন্তু এটি কাজের একটি ধাপ। প্রথমে লেভেলিং করা হয়, পরে সিল কোট দেওয়া হয়। এখনও আরও এক দফা পিচ দেওয়া হবে। তখন রাস্তা মজবুত হবে। মূলত ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কয়রা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিটুমিন ঢালাইয়ের পর রাস্তা পুরোপুরি মজবুত হতে অন্তত সাত দিন সময় প্রয়োজন। তবে কাজে প্রাইম কোট না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে পুরোনো প্রাইম কোটের ওপর কার্পেটিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিটুমিন দেওয়ার পরও ঢালাই উঠে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন