প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গবেষণার উদ্দেশ্যে গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহ করার লক্ষ্যে পাঠানো চীনের মহাকাশযান ‘তিয়ানওয়েন-২’ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ১০০ কোটি কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নির্ধারিত লক্ষ্যস্থলে পৌঁছেছে।
সোমবার বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি চীনের মহাকাশ সংস্থার বরাতে এ খবর জানিয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে উৎক্ষেপণ করা এই মিশনটি গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহে চীনের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সম্প্রতি বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের ঘোষিত ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় চীন তাদের মহাকাশ কর্মসূচিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই অভিযান সেসব প্রচেষ্টার একটা অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসন (সিএনএসএ) এক বিবৃতিতে জানায়, প্রায় ৪০০ দিনের যাত্রার পর তিয়ানওয়েন-২ গ্রহাণুটির ২০ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছেছে এবং এরপর এটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
সংস্থাটি ‘২০১৬ এইচও৩’ নামের গ্রহাণুটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে মহাশূন্যের কালো পটভূমিতে ধূসর ও পাথুরে এই গ্রহাণুকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
সিএনএসএ জানায়, ‘মহাকাশযানটি ধাপে ধাপে আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালাবে। এর মাধ্যমে গ্রহাণুটির আকৃতি, উপাদানের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই তথ্যগুলো পরবর্তী নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করবে।’
নমুনা সংগ্রহ শেষে, তিয়ানওয়েন-২ একটি পৃথক মডিউল বিচ্ছিন্ন করবে যা নমুনাগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।
এর আগে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ অভিযানগুলোও বিভিন্ন গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের বাইরের গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রে তিয়ানওয়েন-২ চীনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রহাণু হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা পাথুরে মহাজাগতিক বস্তু। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব গ্রহাণুর নমুনায় সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন