প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সারাদেশের সাথে সাথে নোয়াখালীতেও টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টির ফলে নোয়াখালী পৌরসভার জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়ক এবং অন্যান্য বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে পৌরসভার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দার জন্য চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বর্ষার শুরুতেই আগাম জলাবদ্ধতার এই চিত্র স্থানীয়দের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে জেলার শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে পায়ের গোড়ালি সমান পানি জমে গেছে। পুলিশ লাইন্স রোড, হাউজিং রোড, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকা, ফকিরপুর রোড, পুরাতন জেলখানা সড়কসহ শহরের অধিকাংশ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে যান চলাচলে বিপর্যয় ঘটেছে। এতে করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সালাউদ্দিন পিয়াস জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কের তুলনায় উঁচু ড্রেন, নিয়মিত পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাব এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রেন অনেক স্থানে কার্যকর হচ্ছে না। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে শহরের খালগুলো খনন ও পরিষ্কার না হওয়ার ফলে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে এবং জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সদর হাসপাতাল সড়ক, পুরাতন জেলখানা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় জর্জরিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলমান থাকায় অনেক সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪-২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত থেকে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছে না নোয়াখালীবাসী। বর্ষার শুরুতেই শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়ির আশপাশে পানি জমে নতুন করে জলাবদ্ধতার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগে নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার, শহরের খাল পুনঃখনন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি কমে যাবে এবং জেলা শহর আবারও স্বাভাবিক ও বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নোয়াখালীর উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেক বলেন, নোয়াখালী পৌরসভা একটি ঐতিহ্যবাহী এবং নিম্নাঞ্চলভিত্তিক পৌরসভা হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে। জনদুর্ভোগ কমাতে পৌরসভা কাজ করছে। গত অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮টি খাল ও ৭টি ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে অনেক স্থানে আবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। পৌরসভার সক্ষমতা অনুযায়ী সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন