প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। বিষয়টি যদিও সবাই জানেন, তথাপি অনেকে খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুষ্টির চেয়ে স্বাদকেই বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। আপনি কী খাচ্ছেন, কতটুকু খাচ্ছেন এবং কোন সময়ে খাচ্ছেন—এসব বিষয়ই শরীরের সুস্থতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যখন যা ইচ্ছা, তা খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করা জরুরি।
পুষ্টিকর ও সুষম খাবারের অভাবে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন পুষ্টিঘাটতি, দুর্বলতা এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যজটিলতা। বিশেষ করে দিনের শুরুতে পুষ্টিকর সকালের নাশতা না খেলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় না। এই বিষয়টি সারাদিনের কর্মক্ষমতা ও মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের খাবার কখনো বাদ দেওয়া উচিত নয়। তবে সকালে ঠিক কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত সেদিকে নজর রাখা জরুরি। কারণ সকালের খাবারের উপরেই নির্ভর করে শরীরের অ্যানার্জি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক সকালে খালি পেটে কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত।
লেবু ও মধু মেশানো পানি: সকালের বেলায় খালি পেটে লেবু ও মধু মেশানো পানি পান করেন অনেকেই। তবে যদি আপনি লেবু না মিশিয়ে মধু দিয়ে খান তাহলেও উপকার পাবেন। অনেকেরই লেবুতে গ্যাস্ট্রিক হয়। এ কারণে তারা শুধু মধু খেতে পারেন পানিতে মিশিয়ে। মধুর মধ্যে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ, ভিটামিন, উৎসেচক থাকে। এসব উপকারিতা শরীরকে ভিতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। খালি পেটে খেলে মেটাবলিজম রেট বাড়ে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের হয়।
ভেজানো কাঠবাদাম: পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে খালি পেটে কয়েকটি ভেজানো কাঠবাদাম খেলে সারাদিন শরীরে যথেষ্ট অ্যানার্জি মেলে। এটি ওজন কমাতেও সহায়ক। আমন্ডে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এজন্য আমন্ডের সবটুকু পুষ্টি পেতে চেষ্টা করুন তা সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খাওয়া।
ডিম: ডিমের পুষ্টিগুণও অনেক। তাই সকালের নাস্তার জন্য অবশ্যই রাখুন সেদ্ধ ডিম কিংবা অমলেট। এর মাধ্যমে সারাদিন খুব বেশি ক্ষুধাও লাগবে না এবং এর ফলে ওজনও কমবে।
ওটস-পাকা কলা: ব্রেকফাস্টে অধিকাংশ লোক ওটস খান। কেউ দুধ দিয়ে, কেউ আবার টকদই দিয়ে। তবে যদি আপনি পরিজ বানিয়ে নিতে পারেন তাহলে তা শরীরের জন্য আরও ভালো। গরম পানিতে ওটস এবং পাকা কলা দিয়েই বানাতে পারেন পরিজ। এর ফলে শরীরে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মাত্রা থাকবে নিয়ন্ত্রণে এবং কমবে কোলেস্টেরল।
পরিজ তৈরি করতে কড়াইতে প্রথমে ওটস ভেজে নিন। এরপর এর মধ্যে ২ কাপ পানি যোগ করুন। কিছুটা ঘন হয়ে এলে আধা কাপ দুধ যোগ করুন। এরপর দুই চামচ গুড় বা মধু মেশান। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে উপরে আমন্ড, কাজু ছড়িয়ে খান। ইচ্ছা হলে কলা বা আপেল দিতে ভুলবেন না।
ফল: সকালের নাশতায় ফল রাখতে ভুলবেন না। অনেকেরই থাকে ভুল ধারণা, খালি পেটে ফল খাওয়া যায় না। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, উপোস ভাঙার পর কিংবা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর খালি পেটে ফল খাওয়া উচিত। ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, ফাইবার ও পানি থাকে। এসব উপাদান শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন