প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গরমের তীব্রতার বৃদ্ধি ঘটার সাথে সাথে হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। একই সময়ে বন্ধ রয়েছে আরএনপিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্রও। এর ফলে নতুন করে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, ঘাটতির পরিমাণ সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি হয়ে গেছে।
একদিকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গরম বাড়ছে, অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ নাজুক হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এর মানে হলো, চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি। এই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট, যা সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট কম। উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট, যা সাধারণ উৎপাদন পরিস্থিতির তুলনায় অন্তত এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট কম।
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা যখন বাড়ে, তখন সব ধরনের সংকটের মধ্যেও ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে দেখা যায়। বিদ্যুতে হঠাৎ এই ঘাটতির কারণ সম্পর্কে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, আদানির একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে। এর ফলে একযোগে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের নতুন ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পুরোনো সমস্যাগুলোও আগের মতোই রয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুধবার রাত ১১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট, যা একদিন আগে ছিল ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র ছাড়াও কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি ত্রুটির কারণে একই সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে। আশুগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র একদিন আগে ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল, কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে কেবল ঢাকা অঞ্চলে অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ অথবা স্বল্প সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বিদ্যুতের এই ঘাটতির ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহের জন্য কমে আসা লোডশেডিং আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরাঞ্চলে দিনে চারবার বিদ্যুৎ চলে গেলেও গ্রামে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টার লোডশেডিং ফিরে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন