প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাজেট অধিবেশনে সকালের সেশনে অনুপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানের ক্ষোভ প্রকাশ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যেসব এমপি বাজেট পাসের দিন অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কারণ দর্শাতে হুইপদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অধিবেশন শেষে, সংসদে তাঁর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী হুইপ ও অনুপস্থিত এমপিদের ডেকে নিয়ে আসেন। একাধিক হুইপ এবং সংসদ সদস্য এই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
গতকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় নির্দিষ্ট সময়ের আগে সংসদে উপস্থিত হন এবং সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়।
অধিবেশন শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে সংসদে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা ছিল তা সত্ত্বেও মুলতবি অধিবেশনে সকালের সেশনে অনেক সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। এই দৃশ্য দেখে প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত হন এবং এটি সন্ধ্যায় তাঁর কার্যালয়ে হুইপ ও এমপিদের কাছে প্রকাশ করেন।
সকালের সেশনে অনুপস্থিত ফরিদপুর অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সকালে যথাসময়ে অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন। আল্লাহই জানেন কপালে কী আছে।’
এসময় রসিকতা করে পাশে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য বলেন, ‘এভাবেই তো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই না। যাক, এই অসিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটু সাক্ষাতের সুযোগ পাব।’
এ ব্যাপারে একজন হুইপ বলেন, মঙ্গলবার সকালে বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সরকারদলীয় এমপিদের অনুপস্থিত দেখে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কয়েকজন হুইপকে ডেকে নিয়ে দলীয় এমপিদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। এই সময় প্রধানমন্ত্রী হুইপদের নির্দেশ দেন যে, যেসব সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের কারণ দর্শাতে হবে। তাঁরা যেন অধিবেশন শেষে সংসদের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে আসেন। প্রথম থেকেই তিনি অধিবেশনকক্ষে ছিলেন এবং বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াসহ আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে অংশ নেন। পাশাপাশি, বিরতির সময়ে প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজও সেরেছেন এবং জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সই করেছেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানালেন, ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনা করে এবার বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজও বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয়েছে গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বাইরেও প্রতিবছরে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি দুই লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।
তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবরাহ করত। বিগত সরকারের সময়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখনও বাকি রয়েছে এবং বর্তমান সরকারকেই এটি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে আপ্যায়ন ভাতা কাটছাঁট করেছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এছাড়া, দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।
সৌজন্যেঃ কালের কণ্ঠ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন