প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতির মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় আবারও হামলা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা থেকে পুনরায় শুরু হওয়া এ সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পরস্পরের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দুই দিনের মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নজরদারির মধ্যে রাখতে গিয়ে ইরান দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন, তখন তাঁর পরিবারের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্যও ছিলেন।
এদিকে, ছয় দিনব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির শেষ দিনে বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ও তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে খামেনিকে দাফন করা হবে। সেখানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মোজতবা খামেনির উপস্থিতি সম্পর্কে সবার নজর থাকবে, যিনি জনসমক্ষে একবারও আসেননি।
মাশহাদ থেকে এএফপি জানাচ্ছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে যে মার্কিন হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন রেলসেতু লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলাকে তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনকে ‘অমানবিক ও মানসিক বিকারগ্রস্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ‘অশালীনতা, মিথ্যাচার ও সামরিক আগ্রাসনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার মাধ্যমে জানা যায়, সর্বশেষ হামলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে তিনজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার।
অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তারা ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের একটি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বাহরাইনের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এসব হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ।
এর আগে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত এবং বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে। এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বৃহস্পতিবার সকালে তৃতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানোর সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান হামলা চালায়।
আইআরজিসি অভিযোগ করেছে যে খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র রেলসেতুতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
তেহরান, কুম এবং ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় পাঁচ দিনব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির শেষে খামেনির কফিনবাহী বিমান বৃহস্পতিবার সকালে মাশহাদে পৌঁছায়।
সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরান শাসনকারী খামেনির শেষকৃত্য নতুন নেতৃত্বের ঐক্যের প্রদর্শনের সুযোগ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতৃত্ব একসাথে থাকার বার্তা দিতে চেষ্টা করছে।
তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তিনি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে খামেনির কফিনবাহী বিমানকে অন্তত একটি যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে মাশহাদে নিয়ে যায়, বলে সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে।
বুধবার দিনভর হামলা-পাল্টা হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ হয়ে গেছে’। তবে তিনি আলোচনা করার পথ খোলা রেখেছেন এবং বলেন, যেকোনো সামরিক অভিযান দ্রুত সমাপ্ত হবে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল এবং গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি এখনো বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আগে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, এখন ইরান এ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ স্থাপন নিয়ে জোর দিচ্ছে।
বুধবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান কিছুক্ষণ আগে যোগাযোগ করেছে এবং তারা ‘খুবই আগ্রহের সঙ্গে একটি সমঝোতা করতে চায়’। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের ‘কিছুটা উন্মাদ’ বলেও মন্তব্য করেন।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বৃহস্পতিবার বলেন, 'হরমুজ প্রণালী কেবল ইরান দ্বারা নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার অধীনে খুলে দেয়া হবে।' তিনি এক্সে লেখেন, 'যুক্তরাষ্ট্র এখনো শেখেনি যে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণতি আছে। স্পষ্ট করে বলছি—আপনারা হামলা করলে, পাল্টা হামলার মুখে পড়বেন।'
গত কয়েকদিনে ইরান অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালানোর পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল।
তবে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর)-এর বিশ্লেষক এলি জেরানমায়ে বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ‘অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে’, কারণ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ। তার মতে, 'তবুও তেহরান এবং ওয়াশিংটনের সামনে কূটনৈতিক পথ ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প নেই, আর সেই পথই এমওইউয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন