প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বঙ্গোপসাগরে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে মেরিটাইম স্যাটেলাইট পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি জানাচ্ছে, এই স্যাটেলাইট চোরাচালান, মানবপাচার রোধ এবং জলসীমায় অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামীদিনে ‘এআইএস-টু ডট জিরো’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সকল প্রক্রিয়া সফলতার সাথে চলতে থাকলে ২০২৮ সালের মাঝামাঝিতে মেরিটাইম স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের আশা করছে সরকার।
একাত্তরে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াইয়ের মাধ্যমে আদায় করে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকার মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০১২ ও ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ে বাংলাদেশের সাগরের বুকে ১১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা পাওয়ার পর সুনীল অর্থনীতির কার্যকর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রবল দাবি উঠেছে বিশেষজ্ঞমহল থেকে। কিন্তু মানচিত্রের অধিকার পাওয়ার পরও সাগরের এই বিশাল এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব রয়েছে।
কোস্টগার্ডের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে এখানে মানবপাচার এবং চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড চলছে। সাগরে ৪০ মিটারের কম গভীরতায় মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কতটা মানা হচ্ছে, তা দেখার কেউ নেই। ফলে, সরকারের মহাকাশে মেরিটাইম স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রস্তাবনা আসছে, যাতে নিজেদের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বলেছেন, বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকায় নজরদারি না থাকলে সেখানে যেকোনো ব্যক্তি মাছ ধরে নিতে পারবে। বঙ্গোপসাগরে আমাদের যে সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারের জন্য স্যাটেলাইট ভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে।
বিএসসিএল জানাচ্ছে, অক্টোবর মাসের মধ্যে ‘এআইএস-টু ডট জিরো’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হবে। সেখানে স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং আর্থসামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে খরচের পরিমাণ নির্ভর করবে স্যাটেলাইটের আয়ু ও কার্যকারিতার ওপর।
ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান আরও জানান, যদি এই বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়, তাহলে স্যাটেলাইটকে ন্যূনতম ১৮ মাসের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা যাবে।
এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ মে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বিএস-ওয়ান মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন