প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। শুরুতে তিনি বলেছিলেন, "ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি নয়"। কিন্তু কয়েক মাসের সংঘাতের পর তিনি রীতিমত চাপে পড়ে আলোচনার টেবিলে বসেছেন। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে কেন? কোন কোন আশঙ্কা তাঁকে এই চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছে?
যে দাপট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই দাপট কমিয়ে ট্রাম্প চুক্তিতে আসতে বাধ্য হয়েছেন। যুদ্ধ শেষের পথে এসে এখন দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ বন্ধের মূল পথ হতে চলেছে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে সমঝোতা।
ডনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে বড় চাপে ছিলেন অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান তেল সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করে। ফলে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ছিল বড় সতর্ক সংকেত। কারণ, তেলের দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে।
দ্বিতীয় চাপটি আসে সামরিক খরচ এবং দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি থেকে। স্থানীয় সংঘাত যত বাড়ছিল, ততই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হতো তাহলে তা আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের মতো ব্যয়বহুল সংঘাতে পরিণত হতে পারতো, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
তৃতীয় চাপ আসে আন্তর্জাতিক মিত্রদের অবস্থান থেকে। ইউরোপীয় মিত্ররা দ্রুত উত্তেজনা কমানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছিলেন, যাতে জ্বালানি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে কোনো ধাক্কা না লাগে। এই কূটনৈতিক চাপও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনা করতে উৎসাহিত করেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আশঙ্কা ছিল ইরানের পাল্টা কৌশল। যুদ্ধ চলতে থাকলে তেহরান হরমুজ প্রণালী ছাড়াও পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরান আক্রমণ করতে পারে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন যে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ হয় তাহলে ক্ষতির অঙ্ক লাভের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তাই অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, সামরিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প চুক্তির সই করেছেন বলেই বিশ্লেষকদের মত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন