প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরিয়ায় হস্তক্ষেপের বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, এরদোয়ান তুরস্ককে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতার’ দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
সিরিয়ার ইদলিবে সামরিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি জারি করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে কাটজ বলেন, ইসরাইল ‘কোনো পক্ষকেই তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে দেবে না’।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে তুর্কি পার্লামেন্টে এরদোয়ানের ‘ফাঁকা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ দেওয়ার চলমান প্রক্রিয়া অব্যহত রাখাই ভালো। এর মাধ্যমে ইসরাইল আত্মরক্ষায় কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তা পরীক্ষা না করাই এরদোয়ানের জন্য শ্রেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানবন্দরে দফায় দফায় বিমান হামলাও চালিয়েছে ইসরাইল। এই ঘটনায় সিরিয়া সহ আরও কিছু আরব দেশ, জর্ডান, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক তীব্র নিন্দা জানায়।
আঙ্কারা সিরিয়ায় তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিতে থাকলেও ইসরাইল সেখানে তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখছে। হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সিরিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে।
হামলা চালানোর পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়ানহু বলেছেন, দামেস্ক ওই ঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেওয়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ইসরাইল বারবার সতর্ক করেছে, এমন পদক্ষেপ তাদের নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সিরিয়া ইসরাইলের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
জবাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ অধিদপ্তর গত বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিয়ার সেই সামরিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যা ভিত্তিহীন।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যে অভিযোগগুলো সামনে এনেছে, সেগুলোর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এসব অভিযোগ সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলের বেআইনি বিমান হামলাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।’
তুরস্কের দাবি, ইসরাইলের এমন বক্তব্যের পেছনে রয়েছে নেতানিয়াহুর আঞ্চলিক ‘সম্প্রসারণবাদী ও অস্থিতিশীলতামূলক নীতি’ অব্যাহত রাখার চেষ্টা। দেশটিতে নির্বাচনের আগে এসব পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে আঙ্কারার পক্ষ থেকে।
তুরস্ক বললেও যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে ‘টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার’ পক্ষে। তবে এর জন্য নেতানিয়াহুকে আগ্রাসী নীতি পরিত্যাগ করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।
আঙ্কারার যোগাযোগ অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে বৈধ ও দায়িত্বশীল ভিত্তিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক। একই সঙ্গে সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা ঠেকাতে তারা ‘কখনোই অনুমতি দেবে না’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন