প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপের আমদানিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি লাভবান হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউরোপ পরোক্ষভাবে এই বসতিগুলো টিকিয়ে রাখতে অর্থের জোগান দিচ্ছে। তদন্তে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত ফল ও সবজি নিয়মিতভাবে ইসরায়েলে উৎপাদিত বলে ঘোষণা করেন ইসরায়েলি রপ্তানিকারকেরা। এরপর এসব পণ্য ইউরোপের বাজারে পাঠানো হচ্ছে।
আইনি সহায়তাভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ইকো’, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি রপ্তানি নথি পরীক্ষা করেছে। এসব নথি বিদেশে পাঠানো ৬ হাজার ৮০০টির বেশি চালানের সাথে সম্পর্কিত। ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে পাঠানো প্রতি প্রায় ছয়টির মধ্যে একটি চালানে বসতিতে উৎপাদিত পণ্য ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাঠানো প্রতি প্রায় পাঁচটি চালানে একটি চালানে এমন পণ্য পাওয়া গেছে। এর বড় অংশই ইসরায়েলে উৎপাদিত হিসেবে ভুল তথ্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে।
কানাডার আইন বিশেষজ্ঞ এবং ফিলিস্তিনবিষয়ক জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি মাইকেল লিংক এই সমস্যাকে ‘পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বসতিতে উৎপাদিত পণ্য প্রকাশ্যে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে সেগুলো অন্য পথে পাঠানো হচ্ছে। আবার অনেক সময় ইসরায়েলের স্বীকৃত সীমান্তের ভেতরে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনের আসল জায়গা গোপন করার ফলে রপ্তানিকারকেরা ইসরায়েলি পণ্যের জন্য নির্ধারিত কম বা শূন্য শুল্কের সুবিধা দাবি করতে পারেন। এর মাধ্যমে যে আয় হয়, তা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বসতিগুলো টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। প্রতিবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, ইউরোপের আমদানিকারকেরা ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে আর্থিকভাবে টিকিয়ে রাখতে’ ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ইউরোপের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এসব ঠেকাতে খুব কম পদক্ষেপ নিচ্ছে।
গ্লোবাল ইকো জানিয়েছে, তারা এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন