প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের (জিএমসি) গাইনি বিভাগে ক্লিনিক্যাল ট্রেনিংয়ের সময় এক শিক্ষার্থীকে তার আবায়া (বোরকা) খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
শিক্ষার্থীরা বুধবার মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, দাবি জানিয়ে যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ধর্মীয় পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মানজনক ও ন্যায্য আচরণের দাবি জানান। আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তোলেন, "আমাদের বোরকা নিয়ে ওদের এত সমস্যা কেন? এটি আমাদের পরিচয় এবং আমাদের গর্ব।"
কলেজ প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা জানান, গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মধু ছিব বোরকা পরা শিক্ষার্থীদের লেবার রুমে (প্রসূতি কক্ষ) ঢুকতে বাধা দেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ধরনের আচরণ সেখানে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—কেন তাদের ধর্মীয় পোশাক পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে? তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শিক্ষার্থীদের বোরকার বদলে কেবল অ্যাপ্রন পরতে বাধ্য করতে চেয়েছেন।
এই ধরনের পদক্ষেপকে সরাসরি 'হয়রানি' বলে আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি; তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে।
জিএমসি ডোডা শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির নির্দেশ দেন।
ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান ড. গরিমা চারকের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট কমিটিকে সম্পূর্ণ "নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত" পরিচালনা করে আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জিএমসি ডোডার একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পেশ করবে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা কলেজ ও হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন। ক্লিনিক্যাল ট্রেনিংয়ের সময় কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বর্তমানে জিএমসি ডোডার অধ্যক্ষের (প্রিন্সিপাল) পদটি খালি রয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষ ড. দেব রাজ ডোগরা তাঁর ঐচ্ছিক অবসরের আবেদনের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন