প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যদি ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও প্রভাব ফেলবে এবং বিশ্বজুড়ে ঝুঁকি তৈরি হবে। এই মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্মেলনে এই বক্তব্য দেন। খবরটি এসেছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।
রুবিওর এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ জলপথে হুমকি কমাতে মার্কিন বাহিনী টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা শুরু করেছে।
ম্যানিলায় আসিয়ানের বৈঠকে রুবিও বলেন, ‘আমরা যদি মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি নজির তৈরি করি, যেখানে কোনো একটি দেশ আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, টোল আদায় করতে পারে এবং অর্থ না দিলে জাহাজ ধ্বংস করতে পারে, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে, এমনকি এই অঞ্চলেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূল বিষয়টি খুবই সহজ। ইরান একটি অধিকার দাবি করছে— যার কোনো বিদ্যমান আইনি ভিত্তি নেই।’
রুবিও জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী নৌযানগুলোর নিয়ন্ত্রণের জন্য ইরানের কোনও আইনি অধিকার নেই। তিনি আরও বলেন, ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতার একটি মৌলিক নীতি হুমকির মুখে পড়েছে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া উচিত নয়।’
রুবিওর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও আসিয়ানভুক্ত কয়েকটি দেশের মধ্যে একাধিক বিরোধপূর্ণ দাবি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ নিয়েও বিরোধ রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রুবিও ফিলিপাইনে পৌঁছান। তার পৌঁছানোর সময় বিতর্কিত ওই জলসীমায় চীনা ও ফিলিপাইনের নাবিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র নিন্দা জানায়।
বুধবার আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে রুবিওর। এছাড়া, তিনি কোয়াড জোটের সদস্য ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।
রুবিও আরও জানান, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তার দাবি, তেহরান এ বিষয়ে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ এগোচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা এবং সমঝোতায় অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।’
রুবিও বলেন, ‘বর্তমান সমস্যাটি হলো, তারা (ইরান) আলোচনাকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে না। তারা যদি আন্তরিক হয়, আমরাও আন্তরিক থাকব। এবং যদি তারা তা না করে, তাহলে আমরা নিজেদের ও মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন