প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা করেছে।
সোমবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর ইসরায়েল ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেয়, পরে তেহরানও একই নির্দেশনা দেয়। এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে- ট্রাম্প কি সক্ষম হবেন নেতানিয়াহুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে?
এ বিষয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের ওপর কেবল টেলিফোনে আলোচনা বা কূটনৈতিক কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়- এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক নীতিবিষয়ক বিশ্লেষকরা। তবে, ভবিষ্যতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের যুদ্ধনীতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর চাপ প্রয়োগ করবেন, সে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।
আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ডেভিড উডস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইসরায়েলের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা সাধারণ কূটনৈতিক বার্তা বা ফোনালাপের বাইরে। বরং এই প্রভাবের পরিধি অনেক বিস্তৃত ও কৌশলগত।
ডেভিড উডস বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত প্রভাবের ক্ষেত্র হলো বাস্তবিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা- যা শুধুমাত্র অস্ত্র বিক্রি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রয়োজন হলে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি সীমিত করা অথবা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় অংশগ্রহণ না করার মতো সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের ‘বাস্তবিক লিভারেজ’ বা কার্যকর চাপ ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। কারণ সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ওপর ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামো অনেকাংশে নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা ইসরায়েলের সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ধরনের কঠোর অবস্থানে যাবেন কিনা, তা এখনো পরিস্কার নয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় এবং চাপ-প্রতিক্রিয়ার ভারসাম্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত নীতি-প্রভাব কেবল বিবৃতিতে নয়, বরং সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের মতো বাস্তব উপাদানের ওপর নির্ভর করে। সুতরাং, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন কতটা কঠোর অবস্থান নেয়, সেটিই ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন দিক নির্ধারণ করবে।
তবে, ইসরায়েল ও ইরানের সর্বশেষ সংযম কত সময় স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। কারণ রবিবারেও ট্রাম্প বলেছিলেন যে, ইসরায়েল এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা করবে না। তবে, সোমবার ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়।
সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন