প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরের সদরের ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন যে প্রাচীন বটগাছটি বিক্রির উদ্যোগ ছিল, তা এখনো বন্ধ হয়েছে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে। পরিবেশকর্মী, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিবাদের কারণে স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে গাছটি সংরক্ষণে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরের সময় সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের ছোট ঝাউয়ের চর নামাপাড়া এলাকার পুরোনো ঈদগাহ মাঠে এখানে অবস্থিত শতবর্ষী বটগাছটি।
সূত্র জানায়, মাঠের পাশের গাছটির বিক্রি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল সংস্কারের অংশ হিসেবে। ঈদগাহ কমিটির সদস্য শাহরিয়ার শামীম তার ফেসবুক পেইজে বিষয়টির উপর একটি পোস্ট দিলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর বিভিন্ন মহল থেকে গাছটি বিক্রি না করার দাবি জানানো হয়।
পরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। নির্দেশনার ভিত্তিতে ইউএনও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাছ বিক্রি এবং কাটার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করেন। উল্লেখ্য যে, ঈদগাহ মাঠ এবং বটগাছটি প্রায় আট শতক জমির ওপর অবস্থিত এবং এটি ওয়াক্ফ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।
সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান) এর সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক মনি বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপ্রধান তারেক রহমান তার উদ্যোগে সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তাই শতবর্ষী একটি গাছ বিক্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।’
তিনি বলেন, ‘এটি পরিবেশ সংরক্ষণের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ায় আমরা তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন একইভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যেকোনো অবস্থাতেই বটগাছটি কাটা যাবে না। কমিটির সদস্যরাও গাছটি সংরক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছটির বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি রাখা হবে।’
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘যখন বিষয়টি আমার নজরে আসে, তখন দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয় এবং গাছটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন