প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকার গঠনের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসাধারণের মাঝে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় কোন রদবদল করার কোনো ইঙ্গিত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা আরও জানান, রেলপথ সম্প্রসারণের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইশতেহারের আওতায় ঘোষিত আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ নামে নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু হয়েছে।
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নের প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এই সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করেছে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেও সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি খুব সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
এদিকে, ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও একটি স্বতন্ত্র আমন্ত্রণ রয়েছে।
তিনি জানান, সরকার গঠনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। এই সফরের সম্ভাবনা যেকোনো সময় বাস্তবায়িত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী: চিফ হুইপ
সাকিব আল হাসান ও শেখ হাসিনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। সাকিব আল হাসান ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে শেখ হাসিনার সঙ্গে এলাইনড হয় এবং এখনো আছে, সে নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ।
সাকিব আল হাসানের বক্তব্যকে সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শুধু সাকিব আল হাসানই নন, শেখ হাসিনাও বাংলাদেশে এলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তিনি তাঁর পুর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটি সবাই মেনে নেবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি ফ্যাসিস্ট আমল নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’ সাকিব আল হাসান কিংবা শেখ হাসিনা—যে কেউ হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলেও তারা নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন