প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের কিছু অংশকে ‘অরুচিকর ও অশ্লীল’ হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করার নির্দেশিকা প্রদান করেন। তিনি সংসদের রীতি-নীতি মেনে চলার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে দেন।
আজ মঙ্গলবার, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার একটি উপমা ব্যবহার করেন। সেই উপমায় ব্যবহৃত কিছু শব্দের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অরুচিকর, অশ্লীল কোনো কথা সংসদে উচ্চারিত হোক, এটা আমরা চাই না।
স্পিকার আরও বলেন, আপনার বক্তব্যে কিছু অশ্লীল শব্দ রয়েছে। সেগুলো এক্সপাঞ্জ করা হলো।
সংসদীয় কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, এক্সপাঞ্জ করা বক্তব্য বা শব্দ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তা সংসদের আনুষ্ঠানিক নথির অংশ হিসেবে গণ্য হয় না।
এর পূর্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুস সাত্তার প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার প্রভাবে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়তে পারে।
নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। তিনি বলেন, বড় বাজেট ঘাটতি ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বাড়াতে পারে। এতে সুদের হার বৃদ্ধি হতে পারে, বিনিয়োগ হ্রাস এবং সরকারের ওপর ও করদাতাদের ওপর ঋণের চাপ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২১ লাখ কোটি টাকার বেশি বলেও দাবি করেন।
মাদরাসা শিক্ষা প্রসঙ্গে, এই সংসদ সদস্য বলেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও মাদরাসা সরকারিকরণের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
তিনি প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাদরাসা সরকারি করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকা নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলায় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার ও সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানান।
একই দিনে সংসদীয় কার্যপ্রণালী ও শৃঙ্খলা মেনে বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পয়েন্ট অব অর্ডার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়, এখানে নির্ধারিত বিধি ও সংবিধান অনুসরণ করেই বক্তব্য দিতে হবে।
তিনি বলেন, সংসদ চলে কার্যপ্রণালী বিধি ও সংবিধানের ভিত্তিতে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যের সমান অধিকার রয়েছে। তবে সব কার্যক্রম নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়।
স্পিকার বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সুযোগ থাকে। বাজেট অধিবেশনের সময় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক আলোচনা চলায় সাধারণত এ ধরনের বিষয়ে সীমিত সুযোগ দেওয়া হয়। কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে হলে বিধি অনুযায়ী আগে নোটিশ দেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। সংসদীয় রীতি বজায় রাখার জন্য সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্পিকার সংসদ সদস্যদের কাগজ দেখে একনাগাড়ে বক্তব্য পাঠ করার প্রবণতার প্রতিও আপত্তি জানান। তিনি বলেন, সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী সদস্যদের না দেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে হলে স্পিকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে স্পিকারের সতর্কতা সত্ত্বেও কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে দেখা যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন