প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সাথে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি সোমবার (২০ জুলাই) রাতের পরে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে নারীটি এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী দাবী করে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) একটি বিবৃতি দেন তিনি। বিবৃতি অনুযায়ী জানা যায়, ঘটনাটি মগবাজারের একটি অফিসের, সিসি ফুটেজের পেছনে চাঁদা দাবি ও ‘ব্ল্যাকমেইল’।
বিবৃতিতে এমপি বলেন, তার গাড়িচালক তার কাছ থেকে চাদা দাবি করে এবং ক্যামেরায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর অবস্থানের ভিডিও ফুটেজ মিডিয়াতে প্রচার করে চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালায়। যদিও নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যায়, তার স্ত্রী একজন।
বিবৃতিতে জামায়াত এমপি বলেন, গত ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২৩ আমার প্রথমা ও দ্বিতীয়া স্ত্রী যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম এবং মোছা. মারিয়াম বেগম এবং অত্র মরিয়াম বেগমের মামা মো. ওবায়দুল্লাহ গাড়ীচালককে সাথে নিয়ে মগবাজারস্থ মো. মাছুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে পরিদর্শনের জন্য যাই। সেখানে আনুমানিক মোট সোয়া ১ ঘণ্টা অবস্থান করি। যোহরের নামাজের পড়ার পূর্বে গাড়ী চালক গাড়ি দেখার জন্য বাইরে যায় বেশ কিছু সময় অবস্থান করে। দ্রুত রুমে ফিরে এসে আমাদের সতর্ক থাকতে বলে এবং পুনরায় চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে দরজা খুলতে বললে দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম দরজা খুলে দেয়। সাথে সাথে ৫/৭ জন অপরিচিত লোক রুমে ঢুকে পড়ে আমাদের কৈফিয়ত তলব করে যে কেন আমরা সেখানে আছি। কিছুক্ষণ পর তারা আমাদের ব্যাগ পকেট চেক করে নিচে একটি বিকাশের দোকানে নিয়ে যায় এবং এক লাখ টাকা দাবী করে। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে উক্ত টাকা প্রদান করতে বাধ্য হই এবং তারা আমাদের নিরাপদে ও স্ব-সম্মানে সেখান থেকে প্রস্থান করতে সহায়তা করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এতক্ষণে আমাদের গাড়ি চালক ওবায়দুল্লাহ বহুক্ষণ ধরে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। এরপর আমরা বাসায় ফিরে আসি। রাত আনুমানিক দশটার দিকে গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহ্ আমার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর কাছে দশ লক্ষ টাকা দাবি করে অন্যথা মগবাজারের চাঁদাবাজরা গাড়ি দেবে না বলে জানান। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হলো- গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহ সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের নায়ক।
বিবৃতিতে বলা যাচ্ছে, গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহর দুলাভাই আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক টানাপোড়ন চলতে থাকে। যদিও অতীতে সম্পর্কটি ভীষণ খারাপ ছিল, বর্তমানে কিছুটা বাহ্যিকভাবে উন্নতি দেখা দিলেও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেনি। গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহ ষড়যন্ত্র করে আমাকে, আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার গাড়ি জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করতে চেয়েছিল। জনাব মাছুম বিল্লাহ কৌশলে পরের রাত প্রায় ১২টার নাগাদ তার একজন ভাই থানার এস আই আমিনুরকে সাথে নিয়ে এয়ারপোর্ট রোড থেকে গাড়ীটা চালকসহ উদ্ধার করেন। এরপর বাসায় এসে গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহকে মারধর করলে ওবায়দুল্লাহ ক্ষুব্ধ হয়ে ছুটে চলে যায়। সেসময় তিনি বলেন, ‘তোমার মেয়ের জীবন আমার হাতে এবং এমপিকে দেখে নেব।’
সুতরাং গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহ হিংসা ও স্বার্থের কারণে তার পূর্বে অফিস রুমে ধারন করা সিসি ক্যামেরায় আমাদের স্বামী-স্ত্রীর অবস্থান ভিডিও ফুটেজ মিডিয়াতে প্রচার করে তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা চালায়। যা সম্পূর্ণ বেআইনী, হিংসাত্মক, চক্রান্তমূলক এবং আমার বা আমাদের চরিত্র হননের সামিল।
বিবৃতিতে তিনি গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহর এমন কাজকে চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন এবং বিষয়টির নিন্দা জানানোর পাশাপাশি চরিত্র হননের জন্য তার কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন