প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদেশি সমর্থকদের কাছে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে প্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে ভিসা ইস্যু, উচ্চ টিকেট মূল্যসহ বেশ কিছু কারণে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আয়োজক দেশের জনগণের মধ্যে আগ্রহের কমতির কারণে বিদেশি দলের ফুটবলপ্রেমীরা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।
তবে, খেলা শুরু হওয়ার পর মার্কিন শহরগুলোর উষ্ণ আতিথেয়তা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যর্থনা বিদেশি সমর্থকদের মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।
কঠোর ভিসা নীতিমালার কারণে ইরান, হাইতি, আইভরি কোস্ট এবং সেনেগালের মতো বেশ কিছু দেশের বড় অংশ স্থানীয় গ্যালারিতে যোগ দিতে পারছে না। এই শূন্যতা পূরণ করতে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন। স্থানীয় আমেরিকানরা স্টেডিয়ামে নিজেদের দেশের মতো সমর্থন না পাওয়া আন্ডারডগ দলগুলোকে পাশে নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মন জয় করছেন।
বর্ণিল আয়োজন, সুসজ্জিত ফ্যান জোন এবং স্থানীয়দের আন্তরিক অভ্যর্থনা মাঠের বাইরের পরিবেশকে আরো আনন্দময় করে তুলেছে, যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তুলছে এবং বিশ্বজুড়ে প্রশংসার পাত্র হচ্ছে।
বোস্টনের একটি পাবে পৌঁছেছেন ‘টারটান আর্মি’র স্কটিশ ভক্ত গেইল নিকোল। তিনি জানিয়েছেন, ‘বোস্টনের একটি পাবে দুজন চমৎকার মেয়ের সাথে আমার দেখা হয়। সেদিন মেয়েটির জন্মদিন ছিল, সে ককটেল খাচ্ছিল। আমি তাকে আরেকটি কিনে দিলাম এবং তারা বারবার বলছিল ‘বোস্টন, ম্যাসাচুসেটসে স্বাগতম!’ তারা আমাদের খুব পছন্দ করেছে, আমরাও তাদের পছন্দ করেছি... এখানকার সবাই খুব বন্ধুত্বপূর্ণ, খুব ভালো।’
‘এখানকার মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও খোলামেলা মনমানসিকতা আমার কাছে একেবারেই নতুন’— জুরিখ থেকে আসা এক সুইস সমর্থকের এমন মন্তব্য আলোচনা তৈরি করেছে।
এছাড়াও, বিশ্বকাপ দেখতে আসা বিদেশি ভ্রমণকারীরা পরিচিতি নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও অরল্যান্ডোর বাইরেও কানসাস সিটি, আটলান্টা ও হিউস্টনের মতো শহরের সাথে পরিচিত হচ্ছেন।
কানসাস সিটিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল অবস্থান করেছে। শহরটি সমবেত হওয়া আর্জেন্টিনার নাগরিকদের নিয়ে গঠিত, যারা সংস্কৃতিতে 'আসাদো' বারবিকিউ খাওয়াকে ফুটবলের মতোই অপরিহার্য বলে মনে করেন—সেখানকার স্থানীয় 'ড্রাই রাব' ঘরানার গ্রিল করা মাংসের স্বাদ নিতে তারা সম্মিলিত হয়েছেন।
খেলা দেখতে আসা আর্জেন্টিনার সমর্থক ক্রিশ্চিয়ান গাস্তেস বরেছেন, 'আর্জেন্টাইন বারবিকিউ আমার সবচেয়ে প্রিয়। তবে এটি সত্যিই বেশ চমৎকার।'
ডালাসে ডুসেলডর্ফ থেকে আসা জার্মান সমর্থক মাক্সিমিলিয়ান কির্খও সেখানকার বারবিকিউর স্বাদ নিচ্ছেন—এবং নিজের নতুন কেনা টেক্সান কাউবয় হ্যাটটি প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘আমি এই সংস্কৃতির আরো অভিজ্ঞতা নিতে চাই।’
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যেসব উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল, তার কয়েকটি এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মায়ামির মতো স্থানের তীব্র গরম খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে; অথচ ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে গ্রীষ্মের আরো এক মাস বাকি। যদিও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি বেশ ভালো। তবে টিকিট এবং যাতায়াতের উচ্চ খরচের কারণে অনেকেই এই সফরে আসতে অনাগ্রহী। তাছাড়া, ভিসার কড়াকড়ি এবং ভিসা না পাওয়া কারণে অনেক ফুটবল ভক্তকে শেষ পর্যন্ত ঘরে বসে টিভিতে খেলা দেখতে হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন