ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

ঢাকা ঘুরে গেলেন প্রফেসর জোনাথন ব্রাউন


ঢাকা ঘুরে গেলেন প্রফেসর জোনাথন ব্রাউন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সফর করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্কলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর জোনাথন এসি ব্রাউন। তিনি বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিএমআরআই)-এর আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের জন্য এ সফর করেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের আলেম-ওলামা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তরুণ গবেষকদের সঙ্গে সভা-সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেন। আজ মঙ্গলবার বিএমআরআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে প্রফেসর জোনাথন ব্রাউনের বর্ণবাদ ও দাসপ্রথা বিষয়ক মৌলিক গবেষণা প্রশংসিত হয়েছে। মুসলিম বিশ্বে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ইমাম বুখারীর হাদিস সংকলনের ওপর তাঁর কালজয়ী কাজ ‘দ্য ক্যানোনাইজেশন অব আল-বুখারি অ্যান্ড মুসলিম’-এর জন্য। ‘দ্য অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম অ্যান্ড ল’-এর প্রধান সম্পাদক হিসাবে প্রফেসর জোনাথন দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবে হাদিস, ইতিহাস ও সিরাত বিষয়ে গবেষণার জন্য সৌদি আরব, মিশর, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। এবার সেই তালিকার সঙ্গে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

সফরের প্রথম দিন, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে তিনি এক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। ওই দিন বিকেলেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের প্রতিবাদ কর্মসূচি

দ্বিতীয় দিন, গত ১ মে (শুক্রবার), জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি মসজিদের খতিব ও দেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ মাওলানা আব্দুল মালেকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে দুই প্রান্তের দুই হাদিস বিশেষজ্ঞের মধ্যে ঘণ্টাখানেক হাদিস শাস্ত্র ও আরব বিশ্বের হাদিস বিশারদদের নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে দুইজন নিজেদের লেখা গ্রন্থও আদান-প্রদান করেন। এরপর, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দাওয়াহ ও রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন করে তরুণ আলেমদের উদ্দেশে তিনি লেকচার প্রদান করেন।

পরবর্তী শনিবার (২ মে) সকালে, বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইউকের আয়োজনে রাজধানীতে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে তরুণ চিন্তক ও গবেষকদের নিয়ে তিনি একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। এই ওয়ার্কশপে তিনি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইসলামী ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা, ইসলামি শরীয়া ও আইন নিয়ে তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

একই দিন বিকেলে, একই হোটেলে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক ও আলেম উলামাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজের ধারা ও প্রবণতা নিয়ে তিনি মতবিনিময় করেন। এই সময় আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর কো-ফাউন্ডার ড. কামরুল হাসান এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইসলামী গবেষক শেখ ফয়জুল ইসলাম। ড. কামরুল ঢাকা শহরকে সাউথ এশিয়ার অন্যতম ইসলামিক ইন্টেলেকচুয়াল হাব করার আশা ব্যক্ত করেন। শেখ ফয়জুল ইসলাম বাংলাদেশের ইসলামি জ্ঞানের আদান প্রদান এবং জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে গোষ্ঠী চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সফরের শেষ দিনের সকালে, রবিবার (৩ মে), জোনাথন ব্রাউন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে তেরো শতকের প্রখ্যাত পণ্ডিত শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। দুপুরে তিনি বাংলা একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় স্কুল ক্রিকেটের শিরোপা জিতল বীট মডেল স্কুল

এই সফরে সরাসরি প্রায় এক হাজার চিন্তক ও গবেষক তাঁর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে দেশটির তরুণ চিন্তক ও গবেষকরা প্রফেসর জোনাথন ব্রাউনের সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাপলা চত্বরের সেই অভিশাপেই হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে: শিবির সভাপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


শাপলা চত্বরের সেই অভিশাপেই হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে: শিবির সভাপতি

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মন্তব্য করেছেন যে, শাপলা চত্বরের ওই হত্যাযজ্ঞের অভিশাপের কারণেই শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে আলো নিভিয়ে যে নৃশংসতা ঘটানো হয়েছিল, সেটিই বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ ছিল।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের পরবর্তী সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন। খেলাফত আন্দোলন ও ছাত্রশিবির এসব কর্মসূচির আয়োজন করেছিল।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেছেন যে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য ও আলেম-ওলামা শূন্য করার জন্য একটি নীলনকশা তৈরি করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন গভীর রাতে আলো নিভিয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। এরপর ২৩৯টি বেওয়ারিশ লাশ গুম করা হয়েছিল। নিরপরাধ আলেমদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে জেলখানায় নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।’

তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘আওয়ামী লীগের নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ছাত্রলীগের লোকদের দিয়ে বিচারের নামে অবিচার করা হয়েছিল।

একই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেছেন, “শাপলা হত্যাকাণ্ডের সময় আপনারা (বিএনপি) রাজপথে নামেননি। বেগম জিয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলনে যোগ দেননি। তখন আপনারা সুপ্ত থেকেও যোগ দেননি, আর এখন আমাদের ‘গুপ্ত’ বলে ডাকেন!”

তিনি যোগ করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে মূলত ‘গণভোট’ হয়ে গেছে। গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে লড়াই চলবে।

খেলাফত আন্দোলনের নেতা মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেছেন, সেদিন রাত আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে অতর্কিত হামলা শুরু হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ সরিয়ে গরম পানি দিয়ে রাস্তা ধুয়ে রক্ত মুছে ফেলা হয়েছিল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শাপলা চত্বরের ঘাতকদের যদি কোথাও পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তবে দেশে আরেকটি বিপ্লব ঘটবে।

শিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ দেলওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের তালিকা ও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে জুলাই মাসের মধ্যে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্য সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। এই সমাবেশে খেলাফত আন্দোলন ও শিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বহু হতাহতের অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকে ইসলামি দলগুলো ৫ মে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য ৭ লাখ ৮৩ হাজার পশু প্রস্তুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য ৭ লাখ ৮৩ হাজার পশু প্রস্তুত

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে কোরবানির জন্য চট্টগ্রাম নগর ও উপজেলাগুলোতে সাত লাখ ৮৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যদিও চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজারের বেশি পশুর ঘাটতি রয়েছে, কিন্তু আশাপাশের উপজেলা ও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে সরবরাহকৃত পশু এই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে প্রাণিসম্পদ বিভাগ মনে করছে। তবে, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিকের মুজরি বৃদ্ধির কারণে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে এবারের কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানাচ্ছে, এবারের ঈদুলআজহায় চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলা ও নগরীর পাঁচলাইশ, কোতোয়ালী, ডবলমুরিং এলাকায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। এর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবং অন্যান্য কোরবানিযোগ্য পশু হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। ফলে চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজার ৫২০টি পশুর ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, গত কোরবানির ঈদের দিন পশুর চাহিদা ছিলো ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি। এই হিসেবে দেখা যায়, গতবারের তুলনায় এবারের কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৭ হাজারের বেশি কমেছে। তবে, চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদনও গতবারের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। যেসব পশু মজুদ রয়েছে, তা চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য যথেষ্ট। আর ঘাটতি পূরণ করতে তিন পার্বত্য জেলা এবং কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের জেলাগুলো থেকে পশু আসবে। তাই শেষ পর্যন্ত পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা আছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চলতি বছর ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। সেই তুলনায় কোরবানি পশুর সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। তাই দেখা যাচ্ছে যে, চলতি বছরে দেশে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরও ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি পশুর চাহিদা ধরা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩৩ লাখ ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকার তথ্য জানানো হয়েছিল প্রাণিসম্পদ বিভাগ কর্তৃক।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারে চট্টগ্রাম জেলায় ষাঁড়, বলদ, গাভি, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলিয়ে সর্বাধিক ৬৯,৪৭৮টি পশুর মজুদ রয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। অন্যদিকে মিরসরাইয়ে ৬০,৩৪০, স›দ্বীপে ৬২,৩১০, সীতকুণ্ডে ৪৩,৮২০, হাটহাজারীতে ৫৪,৭৫৬, রাউজানে ৪৩,৬০৮, রাঙ্গুনিয়ায় ৪৬,৫৬১, বোয়ালখালীতে ৩১,১৬২, পটিয়ায় ৫৯,৭৩৫, চন্দনাইশে ৩৮,৫৫৯, সাতকানিয়ায় ৫২,৯৯৮, লোহাগাড়ায় ৩৭,২৯১, বাঁশখালীতে ৬০,৩৮৯, আনোয়ারায় ৪০,৯৮০ এবং কর্ণফুলীতে ৩২,৪৪৩টি পশুর মজুদ রয়েছে। উল্লেখ্য, এসব এলাকার প্রত্যেকটিতেই চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত আছে।

অন্যদিকে নগরীর পাঁচলাইশে ২৫,৫৯৮, কোতোয়ালীতে ৭,৪৭২ ও ডবলমুরিংয়ে ১৬,৬৬০টি পশুর মজুদ রয়েছে। তবে, এই তিনটি এলাকায় পশুপালনের পরিমাণ কম এবং ঘনবসতির কারণে পাঁচলাইশ এলাকায় ৩০,১৫২, কোতোয়ালীতে ৩১,১৫৮ ও ডবলমুরিং এলাকায় ৪৭,০২০টি পশুর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য আশপাশের উপজেলা ও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে পশু আনার ওপর নির্ভর করতে হবে বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিকে একাধিক খামারিদের সাথে কথা বলা হলে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে পশুখাদ্যের উগ্রমূল্যের কারণে পশুপালনের খরচ বেড়ে গেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে খামারে জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়তি খরচ বেড়েছে। শ্রমিকদের বেতনও আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে পশুপালনে বাড়তি খরচ হওয়ায় পশুর দামে প্রভাব পড়তে পারে।

মিরসরাইয়ের তারেক এগ্রোফার্মের সত্বাধিকারী মো. তারেক বলেন, গরু পালনের খরচ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। খাদ্যের দাম, চিকিৎসা খরচ, ওষুধের দাম, শ্রমিকের মজুরি, বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং পরিবহন ভাড়াসহ সব মিলিয়ে খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যেহেতু তদারকিরও কেউ নেই, ফলে দাম বাড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরের ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে মামলা, আদালতের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


নাটোরের ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে মামলা, আদালতের ক্ষোভ

নাটোরের গুরুদাসপুরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামি করার ঘটনায় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এই নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশনা দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল গুরুদাসপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ৭ বছর বয়সী একটি শিশু আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করে। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, এজাহারে শিশুটির বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ঘটনার সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৭ বছর। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তার জামিন মঞ্জুর করেন এবং কেন প্রকৃত বয়স উল্লেখ করা হয়নি, সে বিষয়ে বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। এ বিষয়ে কালের কণ্ঠ অনলাইন ও প্রিন্ট এডিশনে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আজ আদালতে মামলার বাদী শাহানুর রহমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন হাজির হন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি অভিযুক্তদের খোঁজে এলাকায় গিয়ে তাদের খুঁজে পাননি এবং বয়স যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া আসামিপক্ষ থেকেও প্রকৃত বয়স সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করা হয়নি এমন দাবি করেন তিনি।

তবে আদালত এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে বাদীর বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালত দ্রুত শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় বাদী আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, বিচারক মন্তব্য করেন, ‘এ ধরনের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। বয়স দু-এক বছর কমবেশি হতে পারে, কিন্তু সাত বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল কাদের জানান, সরকারি কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দিলে দণ্ডবিধির ১৭৭ ও ১৮২ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে বন্ধ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


পিরোজপুরে বন্ধ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ

পিরোজপুর জেলায় দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প খুব শিগগিরই পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশা সঞ্চার হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব প্রকল্পগুলোর দ্রুত চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে পিরোজপুর জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহম্মদ সোহেল মনজুর, পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল এবং পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। এ ছাড়া, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল ইসলাম, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন, মনিটরিং ও ইভালুয়েশন বিভাগের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন খানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলেও আশা জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এলজিইডির কিছু প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুরের সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ, তার ভাই মিরাজুল ইসলাম এবং এলজিইডি পিরোজপুরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিক মামলা করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেছেন, নতুনভাবে প্রকল্পগুলো চালু হলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আবারও গতিশীল হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%