প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বড় সংগ্রহ গড়া যেন ভারতের অভ্যাসের মতো হয়ে উঠেছে। সেই ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায় তারা লিখল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে। হারারেতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২১৯ রান তোলে ভারত এবং এতে গড়ে ফেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির নতুন বিশ্বরেকর্ড।
২০২৬ সালে এটি ভারতের নবম ২০০ বা তার বেশি রানের ইনিংস হবে। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টির ইতিহাসে কোনো দল এক ক্যালেন্ডার বছরে এতবার ২০০ রানের গণ্ডি টপকাতে পারেনি। এর আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ভারতই অর্জন করেছিল। ২০২৪ সালে তারা নয়বার ২০০+ সংগ্রহ গড়েছিল। তবে এবার তারা মাত্র ২৩ ম্যাচ খেলেই এই মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন রেকর্ড নিজেদের দখলে নিল।
তবে বছরের শেষ হতে এখনো বেশ সময় বাকি আছে। সামনে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সিরিজ ও টুর্নামেন্ট রয়েছে। এজন্য বছরের শেষে এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ২০২৪ ও ২০২৬—এই দুই বছরই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছর। আগের আসরে রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত ২৬ ম্যাচে নয়বার ২০০ বা তার বেশি রান তুলেছিল। এবার বিশ্বকাপের পর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। সূর্যকুমারের জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছে শ্রেয়াস আইয়ার। অধিনায়ক বদলালেও ভারতের ব্যাটিং দর্শনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্টভাবে দেখা দিয়েছে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকে ভারত। যদিও তারা দুই ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী ও অভিষেক শর্মাকে দ্রুত হারিয়ে ফেলে, পরে ইনিংসের হাল ধরেন ঈশান কিষান। তিনি মাত্র ৪৪ বল খেলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।
অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও শেষদিকে ঝড় তোলেন তিলক বর্মা। তিনি মাত্র ২৯ বল খেলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রান করে ভারতীয় সংগ্রহকে ২১৯ রানে নিয়ে যান। রিংকু সিং ও শিবম দুবে তাদের ইনিংসের শেষ ওভারগুলোতে প্রয়োজনীয় গতি যোগ করেন।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরুতে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল। ব্রায়ান বেনেট ১৯ বল খেলে ৩২ রান করে প্রথমে দ্রুত রান তোলেন কিন্তু স্বাগতিকরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে শুরু করে। একসময় ৩৪ রানেই তারা দুটি উইকেট হারিয়েছিল এবং এরপর তারা আর ম্যাচে ফিরে আসতে পারল না।
ভারতের বোলাররাও ব্যাটারের মতোই কার্যকর ছিলেন। অভিষেক শর্মা বল হাতে তিনটি উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের শেষ প্রতিরোধ ভাঙেন। যশ ঠাকুর ও প্রিন্স যাদব নেন দুটি করে উইকেট এবং রবি বিষ্ণোই, শিবম দুবে ও তিলক বর্মাও একটি করে উইকেট শিকার করেন। ফলে ১৭.৫ ওভারে ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
ভারত ৯০ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি মাঠের জয় সহ পরিসংখ্যানের পাতাতেও নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন