প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ব্যক্তিগতভাবে বেশ ভেঙে পড়েন। মেসি শোক সামলে উঠতে পেশাদার ফুটবল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো। তবে, এই দাবির মধ্যেই মেসি, তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা এই ফুটবলার, ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে ফিরে সবাইকে বিস্মিত করেছেন।
লিওনেল মেসির অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনেও মায়ামির জন্য লিগস কাপে ক্লাব লিওনের কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। ঘরের মাঠে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে এই দলটিকে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তীতে ধাপে যেতে হলে ম্যাচডে ৩-এ মায়ামির জন্য জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না। শুধুমাত্র নিজেদের ম্যাচে জয়ই যথেষ্ট ছিল না, বরং এমএলএসের অন্য ম্যাচগুলোর ফলও তাদের পক্ষেও আসা প্রয়োজন ছিল। ফলে ম্যাচটি শুরু থেকেই মায়ামির জন্য বাঁচা-মরার লড়াই হয়ে দাঁড়ায়।
তার আগে, অ্যাথলেটিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট অর্জন করেছিল মায়ামি। তবে পরবর্তী ম্যাচে মন্টেরের কাছে ২-১ গোলে হারায়, এবং তাদের হিসাব অনেকটা কঠিন হয়ে যায়। শেষ ম্যাচে লিওনের বিপক্ষে জয় পাওয়ার উদ্দেশ্যে মাঠে নামে হেরনরা, যাতে তারা পরের ধাপে উঠতে আশাবাদী থাকতে পারে।
ম্যাচের শুরু থেকেই মায়ামি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ১৯ বছর বয়সী ড্যানিয়েল পিন্টার।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র পরিবর্তিত হয়। ৫০ মিনিটে গোল করে লিওনকে সমতায় ফেরান ড্যানিয়েল আরসিলা। সমতা ফেরার আনন্দ যদিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সফরকারী দলের জন্য। মাত্র তিন মিনিট পর গোল করে আবারও মায়ামিকে এগিয়ে দেন ইয়ানিক ব্রাইট।
২-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও লিওন ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি। বরং ধীরে ধীরে তারা মায়ামির ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। ৬১তম মিনিটে হুয়ান ডমিনগেজের গোলে আবারও সমতায় ফেরে ম্যাচ। তখন দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
ম্যাচের শেষ ভাগে নাটক আরও জমে ওঠে। ৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আরসিলা। তার সেই গোলের ফলে প্রথমবারের মতো ম্যাচে এগিয়ে যায় লিওন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকান দলটি।
মায়ামির জন্য ম্যাচটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল মেসির মাঠে ফেরা। স্বল্প সময়ের বিরতির পর আর্জেন্টাইন তারকাকে শুরুর একাদশে না রেখে বদলি হিসেবে রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পিন্টারের জায়গায় তাকে মাঠে নামানো হয়।
যখনই মেসি মাঠে পা রেখেছেন, গ্যালারিতে অন্য রকম আবহ তৈরি হয়েছে। নু স্টেডিয়ামের দর্শকেরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। মেসির প্রত্যাবর্তন মায়ামির সমর্থকদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার উপস্থিতিও দলের ভাগ্য বদলাতে পারেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন