প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম হওয়ায় একটি ভারতীয় নারীকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার অভিযোগ উঠেছে।
এটি খুবই উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। সব বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এই পুশব্যাকের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ঘটনার বিচার এবং তাকে ফেরত আনার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছে তার পরিবার এবং একটি মানবাধিকার সংগঠন।
ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম সাইদা ফকির (৫০)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে গত ২০ বছর ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস ও কাজ করছিলেন।
গত ১৯ জুলাই, মুম্বাইয়ে বাজার করতে বের হলে পুলিশ তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে। সে সময় সাইদা নিজেকে ভারতীয় দাবি করলেও এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা অবস্থায়ও, পুলিশ তার কথায় কান দেয়নি।
পরিবারের অভিযোগ, আটক হওয়ার পর সাইদা ফকিরকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চলে, যার ফলে তাকে ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে আসামের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়। ২৩ জুলাই সেখান থেকে, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া বা যথাযথ যাচাই ছাড়া শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম হওয়ার কারণে আসাম সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়।
সাইদার পরিবার দাবি করছে, বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে ভিডিও কলে ভারতে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। এ অবস্থায় সাইদাকে অতি শীঘ্রই ভারতে ফিরিয়ে আনার এবং এই বেআইনি পুশব্যাকের সুরাহা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (মাসুম) এবং ভুক্তভোগীর পরিবার।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সাইদা ফকিরের ভোটার আইডি কার্ড, প্যান কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পৈতৃক জমির দলিল তার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। তবে আদালত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন