প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ধানমন্ডি লেককে কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, লেকের সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পানির মান উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে হকার ও রিকশাচালকদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
তিনি রোববার (৭ জুন) সকালে ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে ডিএসসিসি গণশুনানিতে এসব মন্তব্য করেছেন। নাগরিক সেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক আজ বলেন, সিটি করপোরেশন জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে কাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে তা দ্রুত সমাধান করবে। তিনি বর্জ্য অপসারণে রেকর্ড অগ্রগতির উল্লেখ করেন এবং নাগরিকদের নিয়ম মানার আহ্বান জানান।
আবদুস সালাম জানান, গত কয়েকটি ঈদে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে কাজ করেছে। তবে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার জন্য নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য ফেলতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে, কারণ যেকোনো সময় বর্জ্য ফেলা হলে তা দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে লেক ও আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ চলছে। এই বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। তবে লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন।
লেক এলাকার কোনো অংশকে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দেয়া হবে না জানিয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, এটি একটি উন্মুক্ত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশসমৃদ্ধ স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে, যেখানে এলাকার মানুষ অবাধে হাঁটাচলা ও অবসর কাটাতে পারবেন। শুধুমাত্র সীমিত পরিসরে কিছু সুযোগ-সুবিধা থাকতে পারে, তবে পুরো এলাকাকে রেস্টুরেন্ট বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত করা যাবে না।
এছাড়াও তিনি বলেন, ধানমন্ডিকে একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও জনসেবামূলক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাটির পরিবেশ আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখার জন্য পরিকল্পনা রয়েছে।
আবদুস সালাম জানান, এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র নিউ মার্কেটকেও আরও পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বাজার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। বাজার ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি মন্তব্য করেন, অনেক স্থানে হকারদের কারণে ফুটপাত ও সড়ক দখল হয়ে যাচ্ছে এবং ময়লা-আবর্জনার কারণে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। অথচ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত কর ও সেবামূল্য পরিশোধ করলেও হকাররা অনেক ক্ষেত্রে সেই সুবিধা ভোগ করছেন, কিন্তু পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সমান দায়িত্ব পালন করছেন না। তাই সবার জন্য সমান নিয়ম ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন