প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেনাপোল স্থলবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় পণ্য পাচারের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি কাভার্ড ভ্যান ও কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ মোট তিনজনকে আটক করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার (২১ জুন) দিবাগত রাতের প্রায় ৩টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আটক করা চালানে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস এবং আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পাওয়া গেছে।
এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বেনাপোলে অধিকাংশ শুল্ক ফাঁকি, পণ্য চুরি ও অনিয়মের ঘটনা গভীর রাতে সংঘটিত হয়। যদিও প্রতিবার ঘটনার পর তদন্ত, কঠোর ব্যবস্থা ও নজরদারি বৃদ্ধির আশ্বাস দেওয়া হয়, তবুও একই চিত্র বারবার ফিরে আসে।
তাদের মতে, এসব অনিয়ম উদঘাটনে বিজিবি সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
বেনাপোলের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বন্দরে যখন কোনো বড় অনিয়ম বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা দেখা যায়, পরে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলো প্রথমে শনাক্ত করে বিজিবি। যদি সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়মিত অভিযান না চালাত, তাহলে অনেক বড় বড় চালান গন্তব্যে পৌঁছে যেত।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি কাভার্ডভ্যানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের হিসাব ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলমান। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউস দুজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) এবং তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তবে ব্যবসায়ী মহলে প্রশ্ন উঠেছে, শুধু সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় তদন্তে সমস্যা সমাধান হচ্ছে কি না।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক লতা জানান, বন্দরে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। কখনো পণ্য উধাও হয়, কখনো শুল্ক ফাঁকি ইত্যাদির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম বন্ধ হবে না।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে কাস্টমসের জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উধাও হওয়ার বিষয়ে মামলা হয়েছে। এছাড়া ৪১ নম্বর শেড থেকে প্রায় ২৫ টন আমদানিকৃত পণ্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। এর আগে ২৬ নম্বর শেড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণাবহির্ভূত ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে বন্দর ও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুজন এআরও এবং তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বিভিন্ন অপরাধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন