প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে মানবপাচারের বহুমাত্রিক বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ‘লিসেন’ শীর্ষক একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফটোবুকের উদ্বোধন করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। এটি দেশে মানবপাচারের শিকার বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও আলোকচিত্র নিয়ে প্রকাশিত প্রথম ফটোবুক।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয়ে (ইউএন হাউস) এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফটোবুকটি উন্মোচন করা হয়। উদ্বোধনের পর অতিথিরা ‘লিসেন’-এ স্থান পাওয়া আলোকচিত্র ও অভিজ্ঞতার গল্প নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এমপি, আইওএমের উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম।
এ ছাড়া বিভিন্ন দূতাবাস, জাতিসংঘের সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কোইকা) সহায়তায় আইওএম এই ফটোবুকটি প্রকাশ করে।
‘লিসেন’ কেবল একটি আলোকচিত্রের বই নয়; এটি কেবল পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে নারী, পুরুষ, কিশোরী ও শিশুসহ নানা বয়সের ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত মানবিক গল্প তুলে ধরেছে। এই বইটি দেখায়, কিভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষকে শোষণের মুখে ঠেলে দেয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইওএমের অপারেশনস বিষয়ক উপমহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস বলেন, “‘লিসেন’-এ আমরা যে গল্পগুলো দেখছি, সেগুলো অসংখ্য অজানা গল্পের মাত্র একটি অংশ। প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প সামনে আসে, যা মানবপাচারের ভয়াবহ প্রভাবকে আমাদের সামনে তুলে ধরে। আমাদের আর নতুন গল্পের প্রয়োজন নেই। মানবপাচার মোকাবেলায় অর্থবহ পদক্ষেপ শুরু হতে পারে তখনই, যখন আমরা বেঁচে ফেরা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনব এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণ, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ এবং সুরক্ষা কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করব।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মানবপাচার মোকাবেলায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ ধরনের অপরাধ দমনে শক্তিশালী আইন, কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতন ও সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘লিসেন’ বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে এবং আমাদের সবাইকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষার যৌথ দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”
বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক বলেন, ‘লিসেন’ মানবপাচার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী উদ্যোগ এবং এটি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বেঁচে ফেরা মানুষের কণ্ঠকে কেন্দ্রস্থলে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।
কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম মানবপাচার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের কেন্দ্র করে সহায়তা কার্যক্রম জোরদার এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মানবপাচার প্রতিরোধে কোইকার অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
কোইকার সহায়তায় ‘লিসেন’ ফটোবুকটি তৈরি করা হয়েছে। এটি মানবপাচার প্রতিরোধ, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আইওএমের চলমান উদ্যোগের অংশ। এই প্রকাশনাটি মানবপাচারের বিভিন্ন রূপ এবং মানুষকে শোষণের ঝুঁকিতে ফেলে এমন জটিল বাস্তবতা সম্পর্কে গভীরতর উপলব্ধি তৈরিতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানটি একই সঙ্গে বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ ছিল। এ উপলক্ষে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং অংশীদারি আরও জোরদারে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে টেকসই সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে অতিথিরা আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং ‘লিসেন’-এ স্থান পাওয়া আলোকচিত্র ও জীবনগল্পের সঙ্গে পরিচিত হন। এ সময় তারা মানবপাচার, শোষণ ও নির্যাতনমুক্ত একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন