প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এহুদ বারাক নামে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি এক্ষেত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নেতানিয়াহু আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতে পারেন। এমনটি হলে, বারাক বলেন, তাকে 'লাঠি ও পাথর মেরে' ক্ষমতা থেকে বিতাড়নের আহ্বান জানানো হবে। এই মন্তব্যের ফলে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। রবিবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই মন্তব্য করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বারাক বলেন, “আমার আশঙ্কা, নেতানিয়াহু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন এবং তিনি খুব সহজেই তা করতে পারবেন।” তিনি আরও জানান, “যদি তিনি এমন চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে লাঠি ও পাথর মেরে সরিয়ে দেওয়ার ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় থাকবে না।” ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষে বর্তমান সরকার পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বাধীন জোটকে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে কট্টরপন্থি সরকারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মেয়াদ চলতি বছরের অক্টোবরে শেষ হবে। এ অনুযায়ী দেশটিতে আগামী নির্বাচন সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে হওয়ার কথা রয়েছে। বারাকের অভিযোগ, নেতানিয়াহু লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যা হিজবুল্লাহ ও ইরান পাল্টা হামলা চালাতে বাধ্য করবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু অন্তহীন যুদ্ধ চান। কারণ তিনি বোঝেন, যুদ্ধ শেষ হলে তার বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।” এহুদ বারাক আরও অভিযোগ করেন, “যেভাবে তিনি (নেতানিয়াহু) হামাসের সাথে বন্দি বিনিময় চুক্তি বাধাগ্রস্ত করেছেন, একইভাবে লেবানন ইস্যুতেও তিনি অগ্রগতির সম্ভাবনা আটকে দিয়েছেন।” প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু ইসরায়েলে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন। এহুদ বারাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গড়ে ওঠা সমঝোতার সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, “এক কথায়— খারাপ। দুই কথায়— (এই চুক্তি) খুবই খারাপ।” তার মতে, ‘নেতানিয়াহুর ঔদ্ধত্য এবং দূরদর্শিতার অভাবের মূল্য এখন ইসরায়েলকে দিতে হচ্ছে’। বারাকের দাবি, “ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কোনও লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।” এদিকে, এহুদ বারাকের এই মন্তব্যের পর নেতানিয়াহুর মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ বারাকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বারাক।” বিসমুথ আরও বলেন, “তাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো উচিত। যদি মানসিকভাবে সুস্থ প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা উচিত।” সূত্র: ওয়াইনেট নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন