প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পবিত্র মহররম মাস এবং আশুরাকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার দূর করার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সহিহ ইসলামী জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর হাতিরপুলের ইস্টার্ণ প্লাজা জামে মসজিদে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যে উদ্যোগের নাম ‘মহররম কুইজ-২০২৬'।
শুক্রবার (২৭ জুন) এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের মহররম ও আশুরা বিষয়ে ১০০টি প্রশ্নোত্তরের ওপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। এর পর কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারীদের পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
আমরা জানি, আরবি বছরের সূচনা হচ্ছে পবিত্র মহররম মাসের মাধ্যমে। এই সময়ে হিজরি ১৪৪৮ সাল চলছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই মাসকে ঘিরে সমাজে নানা ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কার এবং ভিত্তিহীন প্রচলন ছড়িয়ে আছে। আশুরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকলেও মহররম মাসের প্রকৃত তাৎপর্য, করণীয় এবং বর্জনীয় সম্পর্কে অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে।
শিশু-কিশোরদের মধ্যে সহিহ ইসলামী জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর হাতিরপুলে অবস্থিত ইস্টার্ণ প্লাজা জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে ‘মহররম কুইজ-২০২৬’।
এই আয়োজনের অংশ হিসেবে মসজিদের সম্মানিত খতিব শাইখ মুফতি নিজাম বিন মুহিব মহররম এবং আশুরা বিষয়ে ১০০টি প্রশ্ন ও তার উত্তর প্রস্তুত করেন। পরে এই প্রশ্নগুলো শিশুদের মুখস্ত করানো হয়। ২৫ জুন ৫০ নম্বরের লিখিত এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে খতিব শাইখ মুফতি নিজাম বিন মুহিব উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি মসজিদে এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম কুসংস্কারমুক্ত হয়ে সহিহ দ্বীনি জ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস এবং সত্যের আলোয় আলোকিত হয়ে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের ছেলেবেলা থেকেই কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া গেলে তারা মহররম ও আশুরাকে ঘিরে প্রচলিত ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে দূরে থাকবে এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করার সক্ষমতা অর্জন করবে।
পবিত্র মহররম ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং আল্লাহ তাআলার কাছে সম্মানিত চারটি পবিত্র মাসের অন্যতম। এ মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরার দিনটি ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। সহিহ হাদিসে আশুরার রোজা রাখার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (ছোট) গুনাহের কাফফারা হওয়ার আশা করা যায়। তাই মহররম এবং আশুরাকে ঘিরে কুসংস্কার নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াই একজন মুসলিমের কর্তব্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন