প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠার পর, স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে, এটি কিশোরীর পরিবার দাবি করেছে। অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা পরে পুলিশকে জানাতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে, কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের ঘটনায় কিশোরীর সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুরা গ্রামের মাইজনবাড়ি এলাকার সফিল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। কিশোরীর পরিবার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে, জাহিদুল কিশোরীকে বাড়ির পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে পরে একটি ভাঙা ঘরে তাকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর কিশোরী তার বড় বোনকে বিষয়টি জানালে, পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছে যে, কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরদিন সকালে, কিশোরীর বড় ভাই এই বিষয়ে জাহিদুলকে প্রশ্ন করলে, তিনি তাকে আক্রমণ করেন এবং মামলা করলে পরিণতি ভালো হবে না বলে জানিয়ে দেন। এরপর স্থানীয় গ্রামের সর্দারকে বিষয়টি জানানো হলে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে সেখানে সালিশ বসা হয়। সালিশে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। সেখানে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করানোর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কিশোরীর পরিবার এই ধরনের সালিশ মেনে নেয়নি। পরে, কিশোরীকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পুলিশ তাকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য পরামর্শ দেয়। এরপর কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে, অভিযুক্ত জাহিদুল পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। কিশোরীর বড় ভাই বলেন, জাহিদুল একটি কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। তার বোন অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার বলেছেন, কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অভিযোগের ঘটনায় সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি গাইনি কনসালটেন্টকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নাসিরনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি পুলিশ অবগত। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। কিশোরীর পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন