প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কোটি টাকার সেতু খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেতুতে ওঠার জন্য কোনো সংযোগ সড়ক নেই। এ অবস্থায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। এর ফলে বাড়াইকান্দি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়াইকান্দি খালের ওপর সেতু নির্মাণের কাজ করা হয়। এ কাজটি পরিচালনা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৪ ফুট, এবং এর ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ধরা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজ এই নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। জানুয়ারী মাসে কাজ শুরু হয়ে জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী, সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই পুরো বিল উত্তোলন করেছে। যদিও প্রায় তিন মাস আগে কাজ শেষ হয়েছে, এখন পর্যন্ত সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়াইকান্দি গ্রামের খালের ওপর নির্মিত সেতুটির দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সেতুর দুই পাশে গভীর গর্ত ও অসমতল অংশ থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। সময়ের প্রবাহে সেটিও নড়বড়ে হয়ে গেছে। এর ফলে, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা বা অন্য কোনো ছোট-বড় যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও পারাপার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অত্র অঞ্চলের বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রা ধারন করে এই পথ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিনের কার্যকলাপ করে চলেছে। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে ওঠা কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা থাকার কথা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করেছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও, এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি পিআইওকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে এবং এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করছে, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করা হোক। সেই সঙ্গে, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে, এই বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। দুশ্চিন্তা হয়, কখন পানিতে পড়ে যায়।"
কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "এ পথ দিয়ে বাজারে যেতে হয়। কৃষিপণ্য কখনো ঘাড়ে, কখনো মাথায় করে সেতু পারাপার হতে হয়। সংযোগ সড়ক থাকলে ভ্যান বা সাইকেলে করে নেওয়া সহজ হতো।"
কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, "বর্ষা এলেই ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতু নির্মাণ করা হলেও কোনো উপকারই আমরা পাচ্ছি না।" তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানার জন্য মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানকে অফিসে গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত সরকারি ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, "খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ততটুকুর বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন